২২০০ কিঃমিঃ বাইক ভ্রমণের গল্প (রংপুর-রাঙ্গামাটি-সাজেক-কক্সবাজার-রংপুর) – পর্ব ১

বাইক ভ্রমনে বিশেষ ভাল লাগার দিকগুলো হচ্ছে যেখানে যখন ভাল লাগে খানিকটা ব্রেক দিয়ে জায়গাটা উপভোগ করা যায়, কোন যানবাহনের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় না আর বাইক রাইডের ফিলিং তো আছেই। এজন্যই বাইকাররা এমন স্বাধীন যান ছেড়ে অন্য কিছুতে ভ্রমনে খুব একটা উৎসাহী হয় না।

দেশি-বাইকার রংপুর অঞ্চল থেকে আমরা ৩টা বাইকে মোট ৫ জন খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন এবং কক্সবাজার ৭ দিনে ভ্রমনের পরিকল্পনা করি। ভ্রমনের থেকেও এর পরিকল্পনা যেন অধিক উত্তেজনাকর। গুগল ম্যাপে রাত বিরাত চলে কিঃমিঃ, গতি আর গন্তব্যের হিসেব। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ওই দিকের রাস্তা-ঘাটের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন তা জানতে সিনিয়র ২-৩ বাইকারের সাথে আলোচনা করি। যার মধ্যে ছিলেন এক্সপ্লোরার এম.সি-এর ফাউন্ডার ওয়াহেদ রেজা রোমেল ভাই, এফআই ক্লাবের ফাউন্ডার এম.আর.কে সবুজ ভাই এবং রংপুর রাইডার্সের ফাউন্ডার তানভীর রাহমান রোমান ভাই।

2200 km tour Route

আমাদের সাথে আমার (দেওয়ান সোহান) R15 Version 3.0, ওয়ালিদের FZs V2 এবং অলির Pulsar DTSi 2015 ইডিশন। একে লং ট্যুর তার উপড়ে হিল রাইড তাই এমন জার্নিতে পিলিওন না নেয়াই শ্রেয় কিন্তু বাড়তি ২ জনের আগ্রহ এবং দল ভারী করার ইচ্ছে আমাদেরকে মোটে ৫ জন বানালো।

পরিকল্পনা মাফিক ২৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সকাল ১১ টায় আমরা পার্কের মোড়ে সমবেত হই। FZs V2-তে ওয়ালিদের পিছনে ২টি ব্যাগ বেঁধে দেই এবং বাকি বাইক ২টিতে পিলিওনসহ যাত্রা শুরু করি। আমাদের সাথে ৩টি বাইক, ৩ জন রাইডার যার মধ্যে ২ জন রাইডারের লং ট্যুরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কিছুটা কম। সবার আগ্রহ, ইচ্ছা আর সাহসই ছিল আমাদের ভরসা। আমাদের পরিকল্পনা ছিল প্রায় ৬৪০ কিঃমিঃ রাইড করে সরাসরি রংপুর থেকে সাজেক চলে যাওয়ার। খুব ভোরে রওনা করলেও আমরা রাত ১০-১১টার মধ্যে খাগড়াছড়ি পৌছোতে পারব না। তার উপর বারৈয়ার হাট থেকে খাগড়াছড়ি শহরে ঢুকতে সন্ধ্যা না পাড় করাই উত্তম। সব মিলিয়ে আমাদের জন্য নাইট রাইডের কোন বিকল্প নেই। ভাল করে একটা ঘুম দিয়ে পরের রাতে কিছুটা চাপ নিয়ে সরাসরি প্রথম স্পটে চলে যেতে পারলে আমাদের ১ দিন বেচে যাবে তাই সকাল ১১টায় যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যাত্রা শুরুর আগে আমি বাকিদেরকে গ্রুপ রাইডিংয়ের কিছু ব্যসিক সিগন্যাল সম্পর্কে অবগত করি।

ফুড ভিজেজ, সিরাজগঞ্জ

ফুড ভিজেজ, সিরাজগঞ্জ

ভাগ্য ভাল ছিল রংপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে আমরা তেমন কোন জ্যাম পাইনি। বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ রাস্তার বেহাল দশা হলেও দিনের আলোতে রাইড করতে খুব একটা কষ্ট হয়নি। ফুড ভিলেজে লাঞ্চ করে আর ২টা ছোট ব্রেক নিয়ে সন্ধ্যার আগে আগে আমরা চন্দ্রা পর্যন্ত পৌঁছে যাই। আমার চিন্তা ছিল টংগী দিয়ে ঢাকা ক্রস করলে জ্যাম কম পাব কিন্তু ঘটল ঠিক বিপরীত ঘটনা। এমন জ্যাম ছিল যে বাইক নিয়ে পাড় হয়ে আসারও কোন সুযোগ ছিল না। ৩০০ কিঃমিঃ রাইড করার পর জ্যাম, প্রচন্ড গরম আর ধূলোবালিতে সবার অবস্থা নাজেহাল। আসলে রংপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত আসতে যে পরিমান কষ্ট হয়নি তার ৩ গুন কষ্ট হয়েছে জ্যামের ঢাকা পাড় হতে। শাহজাদপুরে একটা ভালো হোটেল দেখে সবাই ডিনার করে নেই এবং খানিকটা অপেক্ষা করি যাতে জ্যাম কমে যায়। কিন্তু রাত ১০টা বাজার পরও জ্যাম কমার কোন লক্ষন দেখি না। আমার কলেজ, ইউনিভার্সিটি লাইফ ঢাকাতে কেটেছে, প্রায় ৭ বছর ঢাকাতেই ছিলাম কিন্তু বিগত ৩ বছরে জ্যামের গতি যেন আরো পরিবর্তন হয়েছে। ফ্লাইওভার কোনটা কোন দিকে গিয়ে নামছে সেই ব্যাপারে আমার খুব একটা ভালো ধারনা ছিল না। যাই হোক সময় নষ্ট না করে মালিবাগ, মগবাজার, কমলাপুরের জ্যামে চলতে শুরু করি। প্রায় রাত ১২টা বেজে যায় ঢাকা – চট্টগ্রাম মেইনরোডে উঠতে। জ্যাম বিহীন ফোর লেনের বিশাল রাস্তা পেয়ে এবার বেশ খানিকটা স্বস্তি পাওয়া গেল। প্রায় ২০ কিঃমিঃ কিছুটা দ্রুত এসে একটা তেলের পাম্পে ব্রেক দেই। পাম্পটি সম্ভবত নারায়ানগঞ্জের মধ্যে কোথাও হবে ঠিকঠাক খেয়াল করিনি। বাইকে পর্যাপ্ত ফুয়েল ভরে পানি-স্যালাইন পান করে খানিকটা আড্ডা দিয়ে নিজেদের এনার্জি কিছুটা বাড়িয়ে নেই। রাতে ঢাকা-চিটাগাং হাইওয়ে খুব একটা সুবিধার না। কুমিল্লার দিকে মাঝে মাঝে বাইক ছিনতাইয়ের খবর শোনা যায়। একটা বুদ্ধি আছে সেটা হচ্ছে সবাই এক সাথে একটু দ্রুত টেনে যদি কাউকে ক্রস করতে না দেওয়া যায় তাহলে বিপদ কিছুটা কম। আমি সবার সামনে, তার পিছনে ওলি আর সবার পিছনে ওয়ালিদ। পিছনের জন যাতে কোন ভাবেই সামনের জনের লুকিং গ্লাস থেকে বের না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বললাম।

যত গতি, তত ক্ষতি কিন্তু মাঝে মাঝে হয়তো প্রয়োজনে সাধ্যের মধ্যে কিছুটা গতি দরকার হয়। অন্য দিকে ঢাকা-চিটাগাং হাইওয়েতে স্লো রাইড করাটাও কিছুটা কঠিন মনে হয়েছে। সবাই বেশ খানিকটা গতিতে রাইড করতে শুরু করলাম। ঠান্ডা ফুরফুরে হাওয়া, ফাকা ওয়ান ওয়ে রাস্তা সব মিলিয়ে এর আনন্দটাই যেন অন্যরকম। ঘন্টা খানেক পর হালকা বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। আমি আমার এবং আমার পিলিওনের জন্য ২টা রেইনকোর্ট নিয়েছিলাম কিন্তু বাকিদের আগে বলা স্বত্তেও সাথে রেইনকোর্ট নেয়নি। কিন্তু সবাই যখন ভিজছে তখন আমারই বা খানিকটা ভিজলে ক্ষতি কি। চলতে থাকে বৃষ্টির মধ্যে বাইক রাইডিং। বাকি রাইডারদেরকে আগেই বলে দিয়েছিলাম যে এই রাস্তায় যেখানে সেখানে দাঁড়ানো যাবে না। প্রায় ২ ঘন্টা রাইড করে কুমিল্লায় হাইওয়ের পাশে নুরমহল হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে যাত্রা বিরতি দেই। তখন প্রায় রাত ২টা – আড়াইটা বাজে নাইট কোচগুলো এখনও এসে পৌছেনি তাই পরিবেশ বেশ নিরিবিলি। হালকা বৃষ্টিতে ভেজার পর শরীরটা একটু চাঙ্গা করতে চায়ের বিকল্প কিছু নেই। চা পান করে ওখানেই খানিকটা রেস্ট নেই।

আমারদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বারৈয়ার হাট পর্যন্ত পৌঁছে, ওখানে ভোর হলে তারপর খাগড়াছড়ির উদ্দ্যেশে রওনা হওয়া। কিন্তু টানা প্রায় ১৬ ঘন্টা রাইড করে সবার এনার্জি প্রায় শেষের দিকে। খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক গেলে আবার ১০টায় আর্মিদের স্কোয়াডের অপেক্ষায় থাকতে হবে। তার মানে সাজেক পৌঁছতে প্রায় দুপুর ১২টা-১টা বেজে যাবে। সারা রাত না ঘুমিয়ে জার্নি করার পর সবার শরীর বিশ্রাম চাচ্ছে। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম ভোর হওয়ার আগে কিছু দূর চালিয়ে ভাটিয়ারি, বিএমএ, হাটহাজারী হয়ে রাঙ্গামাটি যাওয়ার। এতে করে আমাদের কারোর অপেক্ষায় থাকতে হবে না। রাঙ্গামাটিতে কোথায় গিয়ে থাকব তা এখনও ঠিক করা হয়নি। আমরা তখন ভাটিয়ারির কাছাকাছি। আমাদের দেশি-বাইকার গ্রুপের এফ.জেড.এস রাইডার চাকমা শ্রাবণ ভাইকে ফোন করলাম। উনি বর্তমানে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, কুষ্টিয়াতে এম.বি.এ করছেন। ভাগ্যক্রমে পূজার ছুটিতে উনি তখন রাঙ্গামাটিতে। কোন পথে গেলে অল্প সময়ে রাঙ্গামাটি পৌঁছতে পারব সে বিষয়ে বললেন আর তিনি আমাদের অপেক্ষায় থাকবেন বলে জানালেন। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীর (বি.এম.এ) ভিতরের রাস্তা দিয়ে আমরা চলতে থাকলাম। এ ট্যুরে এখানেই আমাদের প্রথম হিল রাইডের বিনোদন শুরু হল। খুব নিরিবিলি, গোছালো পাহাড়ী রাস্তা আমাকে পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিল। এইস.এস.সি এর পর ২বার আর্মি অফিসার র‌্যাঙ্কে পরিক্ষা দিয়েছিলাম। ২ বারই আই.এস.এস.বি থেকে রিজেক্টেড। সব পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আই.এস.এস.বি বোর্ড থেকে শেষ দিনে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতাটা কেমন তা শুধু তারাই বলতে পারবে যারা রিজেক্টেড হয়েছে। রবিন্দ্রনাথের সেই উক্তির কথা মনে পড়ে গেল “যাহা চাই তাহা ভূল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না”। আর্মি অফিসার না হতে পারলেও প্রোগ্রামিং, আই.টি আর স্বাধীন আউটসোর্সিং পেশা নিয়ে বেশ ভাল আছি। পিছনের রাইডারদেরকে পাশে ডেকে এক এক করে বললাম যেন সব সময় বাম দিকের লেনে থাকে। কারন পাহাড়ি রাস্তায় রাইড করার ফর্মুলা এটাই। আমাদের গতি হয়তো মাঝে মাঝে ৪০ কিঃমিঃ/ঘন্টা পর্যন্তও ছিল। বি.এম.এ ক্রস করার আগে গেটে দায়িত্বরত একজন আর্মি আমাদের থামার ইঙ্গিত দিলেন এবং সাবলীল ভাষায় জিজ্ঞেস করলেন “আপনারা কোথায় থেকে আসছেন? কোথায় যাবেন?”। উত্তরে বললাম রংপুর থেকে আসছি, রাঙ্গামাটি যাব ঘুরতে। এবার জিজ্ঞেস করলেন “রাস্তার পাশে অনেক গুলো সাইনবোর্ড ছিল চোখে পড়েনি ? আপনাদের গতি বেশি ছিল আর এখানে ওভারটেকিং নিষেধ”। আমি উত্তরে যা সত্যি তাই বললাম যে, গতি খুব বেশি ছিল না আর পিছনের রাইডারদেরকে বলছিলাম এক লেনে চলার কথা। উনি আমার উত্তরে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। বুঝতে পারলাম এই বিশাল এড়িয়া জুড়ে রাস্তার সব জায়গা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা রয়েছে।

সকাল প্রায় ৭টা বেজে গেছে, এখনও বেশ খানিকটা পথ। হাটহাজারী হয়ে রাঙ্গামাটির দিকে এগুতে থাকলাম। যেখানে পাহাড়ি রাস্তা শুরু হবে সেখানে শ্রাবণ ভাইয়ের আমাদের জন্য অপেক্ষা করার কথা। পাহাড়ি রাস্তা এখনও শুরু হয়নি। আমাদের উল্টো দিক থেকে ২-৩টা বাইক আমাদের থামার ইশারা দিল। আমি ভাবলাম আমার বাইকের অটো হেডলাইট অন (এ.এইছ.ও) তাই অনেকে ইশারা দেয় হেডলাইট বন্ধ করার জন্য। কিন্তু তাৎক্ষণিক মাথায় কাজ করল যে, শ্রাবণ দাদা তো সাদা এফ.জেড.এস চালায়। বাইক থামালাম আর ওটাই ছিল শ্রাবণ ভাইয়ের সাথে প্রথম দেখা। কুশলাদি বিনিময় করে আমরা দাদার বাইক ফলো করতে লাগলাম। ওদের জন্মই পাহাড়ে তাই পাহাড়ে ওদের সাথে বাইক চালিয়ে পাড়াটা প্রায় অসম্ভব। রাঙ্গামাটি যাওয়ার আগে আগেই পুরো দমে পাহাড়ী রাস্তার শুরু হল। উঁচু নিচু আঁকা বাঁকা রাস্তায় রাইড করার আনন্দ উপভোগ করতে করতে অল্প সময়ে রাঙ্গামাটি শহরে গিয়ে পৌঁছলাম। শ্রাবণ দা আমাদের জন্য একটা হোটেলও ঠিক করে রেখেছেন। হোটেলের নিচে বাইক রেখে আমরা রুমে চলে গেলাম। শ্রাবণ দাদা বললেন বিকেলে উনি আমাদের রাঙ্গামাটি ঘুরিয়ে দেখাবেন। গোসল আর হালকা নাস্তা করেই চিটপটাং। ঘুম হল কিন্তু মনের মত নয়। হোটেলটি রাস্তার পাশে হওয়াতে দিনের বেলা বেশ সোরগোল। ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে বেড় হলাম দুপুরের খাবারের উদ্দ্যেশে। বেশ খোঁজাখুঁজি করে একটা হোটেলে বসলাম মধ্যাহ্ন ভোজনের জন্য। দুপুরে এবং রাতে একই হোটেলে খেয়েছি। খাবারের দাম খুব বেশি কিংবা কম নয়। কিন্তু মানের দিক থেকে ১০০ তে ৫০ পাবে। রাঙ্গামাটিতে ভালো মানের খাবার হোটেলের সংখ্যা কম বলেই মনে হয়েছে আমার। হোটেলে ফিরে এসে খানিকটা রেস্ট নিলাম।

Kaptai Lake

শুরু হল বৃষ্টি। ভাবলাম আজ হয়তো কিছু দেখা হবে না। হোটেলের জানালা খুলে দিয়ে আশে পাশের পরিবেশ উপভোগ করতে থাকলাম। অসাধারন ভিউ। উঁচু উঁচু পাহাড়ের মাঝে কাপ্তাই লেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকার আনাগোনা দেখতে বেশ ভাল লাগছিল।

Rangamati

এর মধ্যে বৃষ্টি থেমে গেল। শ্রাবণ দাদাকে ফোন দিলাম। তখন প্রায় সাড়ে ৪টা বাজে। ওদের সাথে বেড় হলাম রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রীজ, আসামবস্তি ব্রীজ ও কাপ্তাই লেক দেখতে। শ্রাবণ ভাইয়ের মাধ্যমে রাঙ্গামাটির অনেক বাইকারদের সাথে পরিচয় হল যার মধ্যে ছিল দেওয়ান আকাশ, কাকন চাকমা, এঞ্জেল খিসা এবং আরও অনেকে। ছেলেগুলো খুব প্রাণ খোলা আর বন্ধু বৎসল। ঝুলন্ত ব্রীজ পানিতে ডুবে গেছে, কাপ্তাই লেকে অথৈ পানি।

আসামবস্তি লেক

আড্ডা জমে উঠেছিল আসামবস্তি লেকে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করে হোটেলে ব্যাক করলাম। শুয়ে বসে চলল আড্ডা আর পরের দিনের পরিকল্পনা। টানা রাইড করে সবাই বেশ ক্লান্ত আর রাঙ্গামাটি ঘুরে দেখার মত আরো অনেক কিছুই আছে তাই কালকের দিনটাও রাঙ্গামাটি থাকা যায়। তবে হাতে ৭ দিনের সময় নিয়ে এসেছি আর এর মধ্যেই ঘুরতে হবে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, কক্সবাবার। সিদ্ধান্ত একেবারে স্থির হল না।

Rangamati

কাপ্তাই লেক, রাঙ্গামাটি

রাতের খাবারের জন্য বের হলাম ৫ জনে মিলে। খাওয়া শেষ করে রুমে এসে ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পরলাম এই ভেবে যে আগামিকাল হয়তো রাঙ্গামাটিতেই থাকছি নয়তো সাজেকের উদ্দ্যেশে রওনা দিচ্ছি।

 

 

লেখকঃ দেওয়ান সোহান

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: