Suzuki Bangladesh
Hero Achiever 150 মালিকানা রিভিউ - দেশি বাইকার

Hero Achiever 150 মালিকানা রিভিউ

Tourino Tyres

নিজের বাইকের ১ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভাবলাম একটা ইউজার রিভিউ দেই।আগে বাবার বাইক চালাইছি কয়েক বছর,গত বছর নিজের জন্য বাইক কিনলাম হিরো এচিভার, বাংলাদেশের বাজারে অবহেলিত একটা ১৫০ সিসির বাইক।সব বাইকেরই পজিটিভ ও নেগেটিভ দিক আছে, একজন ব্যবহারকারী হিসেবে আমার নিজের কাছে যে জিনিসগুলা ভালো বা মন্দ লেগেছে সেগুলো শেয়ার করছি,আরেকজনের অভিজ্ঞতার সাথে আমারগুলার মিল নাও থাকতে পারে।

 

স্পেসিফিকেশন নিয়ে কি বলবো, ইন্টারনেটে দেখে নিতে পারবেন; সহজে বলি ১৫০ সিসি এয়ার কুলড বাইক যার বিএচপি ১৩.৪,কম্প্রেশন রেশিও ৯.১:১, i3s টেকনোলজি আছে,সামনে ডিস্ক ব্রেক- পেছনে ড্রাম ব্রেক,১৩ লিটারের ফুয়েল ট্যাংক,৮০/১০০-১৮ সাইজের টিউবলেস টায়ার,গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬০ মিমি,ওজন ১৩৯ কেজি।

প্রথমেই বলি লুক নিয়ে,লুক অতি সাধারন কমিউটার বাইকের মতো লুক এচিভারের এবং এটাই হয়তো সবচেয়ে বড় কারণ বাংলাদেশের বাজারে বাইকটার বিক্রি কম হওয়ার।

বাইকের সিট যথেস্ট বড়, জরুরি প্রয়োজনে ৩ জন বসা যায় ভালোভাবেই এবং সিটটা আরামদায়ক।অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় সিটিং পজিশন,এই বাইকের সিটিং পজিশন এভারেজ হাইটের মানুষ হিসেবে আমার কাছে পারফেক্ট লেগেছে,হ্যান্ডেলবারের পজিশনও ভালো হওয়ায় লং রাইডেও কোন পেইন ফিল করি নাই।

সাসপেনশন বেশ ভালো, টায়ার প্রেশার ঠিকমতো রাখলে ভাঙ্গা রাস্তায়ও বেশ ভালো সাপোর্ট দেয়,যদিও পেছনে গ্যাস চার্জড সাসপেনশন না,পেছনের সাসপেনশন ৫ স্টেপ এডজাস্টেবল,আপনার সুবিধামতো এডজাস্ট করে নিবেন।

সামনের চাকা ৮০/১০০ সাইজের, এটা কোনো সমস্যা মনে হয় নাই আমার কাছে তবে পেছনের চাকাও সেইম সাইজের দেয়াটা বড্ড বেমানান লাগে,আমি পেছনে ১০০/৯০ লাগিয়ে নিয়েছি তাই দেখতে বেশ ভালোই লাগে এখন এবং গ্রিপ ও কন্ট্রোলও আগের চেয়ে অনেক বেশি পাই।

 

বাইকের ব্রেকিং আমার কাছে বেশ ভালো মনে হয়েছে,ব্রেকিং নিয়ে আমার কোনো কমপ্লেইন নাই,এই এক বছরে একবারও আমি স্কিড করি নাই যেটা নিয়ে চিকন চাকার বাইকের মালিকদের সবচেয়ে বেশি কমপ্লেইন থাকে,তবে ব্রেক ধরার উপর স্কিড করার ব্যাপারটা অনেকটা নির্ভর করে বলে আমি মনে করি।কারণ যার বাইক নরমাল তিনি যদি প্রিমিয়াম বাইকের মতো ১৫-২০ ফিট দুরত্বের মধ্যে স্পিড ১০০ থেকে ০ করবেন বলে আশা করেন তাহলে তো হবে না।

এবার বলি আসল পারফরমেন্সের কথা,ইন্জিন নিয়ে।বাইকটা ১৫০ সিসি তাই ইন্জিন যথেস্ট পাওয়ারফুল,বিএচপি তো উপরে উল্লেখ করেছি,এক্সিলারেশন বেশ ভালো,২ লাখ টাকার নিচের যে কোনো ১৫০ সিসি সেগমেন্টের যে কোনো বাইকের সাথে এক্সিলারেশনের তুলনা করলে তেমন কোনো পার্থক্য পাবেন না।টপ স্পিডও যথেস্ট, একা চালিয়ে ১১৫ সর্বোচ্চ স্পিড পেয়েছি আর পিলিয়নসহ সর্বোচ্চ পেয়েছি ১১০।৭০ এর নিচে কোনো ভাইব্রেশন টের পাওয়া যায় না,এর বেশি যাওয়ার পর থেকেই ভাইব্রেশন টের পেতে শুরু করবেন।তবে প্রথমদিকে ৯০ স্পিডের আগে ভাইব্রেশন তেমনভাবে টের পেতাম না, ইদানিং ৭০ উঠলেই পাই,জানি না বাইকের কোনো সমস্যা কি না।

এবার বলি মাইলেজ নিয়ে,আমার মতো গরীবদের জন্য যেটা বেশ ভাইটাল একটা বিষয়,চাকা পরিবর্তন করা সত্বেও ঢাকার ভিতরে ৪০-৪২ মাইলেজ পাই,হাইওয়েতে নরমালি চালালে ৫৫ এর মতো পাই, আর একটু বেশি রেভ করে চালালে ৪৮-৫০ পাই।বাইকটা কেনার আগে ইউটিউবে দেখেছি ভারতের ব্যস্ততম সিটিতেও নাকি তারা ৫০ এর চেয়েও বেশি মাইলেজ পায়,তবে আমাদের দেশে মাইলেজ তেলের কোয়ালিটি আর পরিমাণের কারণে কম হতে পারে,বেশির ভাগ তেলের পাম্পই মোটামুটি কোনো না কোনোভাবে আমাদেরকে ঠকাচ্ছে।

বাইকের হেডলাইট এসি অপারেটেড,তাই এক্সিলারেটর কমালে হেডলাইটের আলো কমে যায় যেটা কখনো কখনো ভাঙ্গা রাস্তায় বেশ সমস্যা তৈরি করে, তবে এটা শুধু এই বাইকের ক্ষেত্রে না, হিরো এবং হোন্ডার সব বাইকের হেডলাইটই এসি অপারেটেড।

 

এবার এক বছরের রাইডিং অভিজ্ঞতা এবং মেইনটেইনেন্সের কথা বলি।আমি গত এক বছরে ১৩৭০০ কিলোমিটার চালিয়েছি,বেশির ভাগ সময়েই সিটিতে রাইড দিয়েছি, হাইওয়েতেও গেছি অনেকবার, ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ রেগুলার যাওয়া হয়,ময়মনসিংহ গেছি একবার পিলিয়নসহ,মাদারীপুর,টাঙ্গাইল,মানিকগঞ্জ,কাপাসিয়া,মীরসরাই গেছি একা। সবচেয়ে বেশি একদিনে সর্বোচ্চ চালাইছি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার,ঢাকা থেকে মীরসরাই গিয়ে আবার ঐ দিনেই ঢাকায় ফিরেছি। একটু ঘুরতে পছন্দ করি,তাই সব উইকএন্ডেই কমবেশি ঢাকার আশেপাশে যাওয়া হয়।এখন পর্যন্ত খারাপ কোনো পরিস্থিতিতে পড়ি নাই বাইকের সমস্যার কারণে।সবসময় ১০w-৩০ মিনারেল ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার করেছি।গত এক বছরে একবার সামনের ব্রেক প্যাড বদলাইছি(৩৫০ টাকা),এয়ার ফিল্টার একবার বদলাইছি(২২০ টাকা),পেছনের লাইট বদলাইছি ২ বার(৪০ টাকা),ইন্ডিকেটর ফ্ল্যাশার বদলাইছি ১ বার(১৩০ টাকা), গিয়ার লিভারের স্প্রিং একবার বদলাইছি( ৪০ টাকা), ব্যাটারিটা সমস্যা করছে,চেন্জ করে ফেলতে হবে।গত ৩ মাসে ৩ বার চার্জ দিয়েছি,একবার চার্জ করলে ২০-২৫ দিনের মতো ঠিকমতো চলে,তারপরে আর সেল্ফ স্টার্ট কাজ করে না।

আরো হয়তো অনেক পয়েন্ট বাদ পড়ে গেছে, কারো অন্য কিছু জানার থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন, চেস্টা করবো ঐ বিষয়ে কিছু কথা আবার এড করে দিতে।তবে এক কথায় কেউ যদি জানতে চান বাইকটা “ভ্যালু ফর মানি” কিনা তবে নিঃসন্দেহে আমার উত্তর হবে ইয়েস। এরকম বাজেটের মধ্যে সেরা একটা ১৫০ সিসির বাইক।যারা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বাজেটে বাইক কিনতে চান তাদের জন্য আদর্শ বাইক।

 

সবশেষে একটা কথা, বাইক যতো সিসিরই হোক, নিজের সামর্থ্যের শেষ সীমাটা কখনো অতিক্রম করতে যাবেন না,এক্সিলারেটর ধরে রাখলে ছোট বাচ্চাও বাইকের টপ স্পিড তুলতে পারবে, কিন্তু সেটাকে থামাতে জানতে হবে।তাই গতি সীমিত রেখে বাইক চালানোর অভ্যাস করুন।আমি চাই প্রতিটা বাইকার সূস্থ শরীরে প্রতিদিন তার ঘরে আপনজনদের মাঝে ফিরে আসুক।

 

লিখেছেন- রফিকুল ইসলাম সুমন

মন্তব্য
Shell Advance

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
×