Suzuki Bangladesh
Yamaha R15 V3 (Indian Version) ৭০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন- এ এফ সৈকত) - দেশি বাইকার

Yamaha R15 V3 (Indian Version) ৭০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন- এ এফ সৈকত)

Tourino Tyres

আজ আমি আপনাদের সাথে আমার ব্যাবহৃত Yamaha R15 V3 ABS বাইকটি সমন্ধে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো ।

লাস্ট 10 মাসে আমি বাইকটি প্রায় 7,000 কিলোমিটার রাইড করেছি। আর এই রিভিউটি সেই অভিজ্ঞতা থেকেই লেখা । আমি AF SHAIKAT আইন বিভাগ এ অধ্যায়নরত একজন ছাত্র । এই বাইকটি আমার চতুর্থ বাইক। আমার প্রথম বাইক হচ্ছে TVS STAR। বাইকের প্রতি নেশা, ভালবাসাটা আসলে ছোট বেলা থেকেই। বাইক চালাতে, বাইক দিয়ে ঘুরাঘুরি করতে ভাল লাগে। মন ভাল থাকে। আসলে কি চার চাকার বদ্ধ গাড়িতে পৃথিবীটা ততোটা উপভোগ করা যায় না যতটা করা যায় দু চাকার বাইকে। Yamaha R15 V3 ABS বাইকটি বেছে নেওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় যে কারনটি হল নিজের পছন্দ, নিজের সপ্ন এবং ইচ্ছার মুল্যায়ন করা। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে YZF R সিরিজের ভক্ত। R15 ভাল লাগে সেই ২০১১ সাল থেকে। তখন V2 ছিল, সেটাই পছন্দ ছিল। কিন্তু R সিরিজের বাইক কিনতে কিনতে এতটাই লেট হল যে তখন V3 মার্কেটে এসে পরেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে V2 থেকে V3 অনেক বেশি আপডেট, ইঞ্জিন, লুক সব দিক থেকেই। তাই বেছে নিলাম পছন্দের সেই বাইক।

বাইকটি কিনেছি আমি অফিসিয়ালি, RS motor Sirajganj থেকে । প্রথম অবস্থায় Yamaha R15 V3 ABS বাইকটার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ, খুব স্মুথ । নতুন বাইক, তাই ইঞ্জিন কিছুটা জ্যাম জ্যাম লাগছিল। গিয়ার শিফট করার সময় লক্ষ করেছিলাম সেটা একটু হার্ড। অন্যদিকে বাইকের ইঞ্জিন খুব বেশিই গরম হচ্ছিল, নতুন বাইকে যেমন হয় । বাইকটি ১ কিলোমিটারের মত চালাতেই কিভাবে যেন বাইকটির সাথে এডজাস্ট হয়ে যাই, অর্থাৎ সেই ভয়টা চলে যায়। প্রতিদিনই কম করে হলেও 20/30 কি.মি. বাইক চালাই। বাইক চালালে মন ভাল থাকে, টেনশন কম থাকে। বাইকটি চালিয়ে পারফরম্যান্স এর দিক থেকে যতটা সেটিস্ফাই, তার থেকেও বেশি হচ্ছে মনের দিক থেকে। এটাই যে, আমার স্বপ্নের বাইক, আমার পছন্দের বাইক সেটার সাথেই আছি।

ফিচার এবং পারফর্মেন্স – বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে সিংগেল সিলিন্ডারের 155.1 সিসির চার ভাল্বের, একটি ফোর-স্ট্রোক ইঞ্জিন। বাইকটির ইঞ্জিনে থেকে সর্বোচ্চ পাওয়ার 19.4 BHP প্রডিউস করে এবং 14.7 Nm টর্ক উৎপন্ন করে। বাইকটির সামনের চাকায় রয়েছে ১০০ সেকশনের এবং পেছনের চাকায় রয়েছে ১৪০ সেকশনের টিউবলেস টায়ার। বাইকটিতে সামনের চাকায় ব্যবহার করেছে টেলিসকপিক সাসপেনশন এবং পেছনের চাকায় রয়েছে মনোশক সাসপেনশন। বাইকটিতে তিনটি নতুন ফিচার এড করা হয়েছে, ABS( Antylock Breaking system) VVA(Variable Valve Actuation) & Slipper Assist Clutch ABS যুক্ত করার পর বাইকের ব্রেকিং পারফরমেন্স কে এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে দিয়েছে । 7500 RPM এর পরে VVA active হয়, এবং Slipper ক্লাচটি বাইকের গিয়ার শিফটিং খুব ফাস্ট এবং স্মুথ করে। সার্ভিসিং – প্রায় 7000 কিলোমিটার এ বাইকটি মোট তিন বার সার্ভিসিং করিয়েছি। তবে শীঘ্রই আরো একটা সার্ভিসিং করিয়ে নিব। প্রথম 900 কিলোমিটার রাইড করার পরে আমি একটা সার্ভিসিং করিয়েছি। তারপর 3000 কিলোমিটার এ আরো একটা সার্ভিসিং করিয়েছি। এরপর 5500 কিলোমিটার এ একবার করিয়েছি। মাইলেজ – আমি বাইকটি 2000 কি.মি. পর্যন্ত ব্রেকিং পিরিয়ড মেনে বাইক চালিয়েছি। এ সময়ে বাইকের R.P.M. 5000 এর বেশি তুলিনি । সেক্ষেত্রে আমি সিটিতে মাইলেজ পেয়েছি প্রায় 40-45 কি.মি./লিটার এবং হাইওয়েতে 45-51 কি.মি/লিটার। কিন্তু 2000 কি.মি. এর পর থেকে মাইলেজ পাচ্ছি 48 কি.মি/লিটার এর মত। তবে 7500 R.P.M. এর উপরে চালালে যখন VVA এক্টিভেট হয়, তখন মাইলেজ কিছুটা কমে যায়।

ইঞ্জিন অয়েল – আমার বাইকের ইঞ্জিন অয়েলের গ্রেড হচ্ছে 10w40। বাইকটিতে ৮৫০মিলি ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করতে হয়। তবে ওয়েল ফিল্টার চেঞ্জ করার সময় আরো ৫০মিলি বাড়িয়ে অর্থাৎ ৯০০মিলি ব্যবহার করতে হয়। ব্রেকিং পিরিয়ডে আমি মিনারেল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেছি।Yamalub প্রথমে ইউস করেছি। যথাক্রমে ২০০ কিলোমিটার, ৭০০ কিলোমিটার, ১৩০০ কিলোমিটার, ২০০০ কিলোমিটার এ পরিবর্তন করেছি। পরের ৩০০০ কিলোমিটার অর্থাৎ ২০০০ – ৫০০০ কিলোমিটার সেমি-সিন্থেটিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেছি। ৫০০০ কিলোমিটার এরপরে আমি ফুল-সিন্থেটিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করি। টপ স্পিড – আমি আসলে অতিরিক্ত স্পিড পছন্দ করি না। মানে প্রয়োজনের বেশী স্পিড পছন্দ করি না। আমি সব সময় সেইফ থাকার ট্রাই করি, কারণ সেইফটি আমার প্রথম লক্ষ। তবে বাইকটির পারফর্ম এবং টপ স্পিড চেইক করতে একদিন বাইকটি যমুনা সেতুর উপর টপ স্পিড তোলার ট্রাই করেছি। বাইকটিতে পিলিওন ছাড়া আমি 141 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা পেয়েছি (আমার ওজন 67 কেজি) এবং পিলিয়ন সহ 138 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা পর্যন্ত তুলতে সক্ষম হয়েছি। তবে YouTube এর কিছু ভিডিওতে দেখেছি বাইকের টপস্পিড ১৫৫ – ১৫৯ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা পর্যন্ত স্পিড উঠিয়েছে। বাইকটির কিছু ভাল দিক-

■বাইকটি সবচেয়ে ভাল দিক বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় এর লুকস সমন্ধে।

■ব্রেকিং সিস্টেম ABS।সেই সাথে বাইকটির ব্যালেন্স খুব ভাল।

■বাইকের ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স অসাধারণ। এর VVA এবং স্লিপার ক্লাচ এর জন্য বাইকটির পারফর্মেন্স অনেক ভাল।

■বাইকটির কর্নারিং ক্ষমতা অসাধারণ।

■বাইকটির বিল্ড কোয়ালিটি স্পোর্টস বাইক হিসেবে সন্তুষ্টজনক। এবং বাইকটির কালার/গ্রাফিক্স খুব উজ্জ্বল।

■স্পোর্টস বাইক হওয়া স্বত্ত্বেও এর মাইলেজ খুব ভাল। বাইকটির কিছু খারাপ দিক-

■বাইকের হেডলাইটের আলো খুব কম। তাই রাতের বেলা হাইওয়েতে কিছুটা সমস্যা হয়।

■এর স্পেয়ার পার্টস গুলোর দাম খুব বেশি।

■বাইকটি বেশ বড়, তাই কম উচ্চতার মানুষের জন্য বাইকটি রাইড করা খুব কঠিন হয়ে যাবে । আপনি যদি এমন একটি বাইক চান যেটা থেকে আপনি পারফরম্যান্স চান, ভাল ব্রেকিং চান, ভাল ব্যালেন্স চান এবং হাইওয়েতে রাইড করতে চান তবে এই বাইকটি আপনার জন্য। তবে এই বড় বাইকটি নিয়ে শহরের ট্রাফিক জ্যামে আপনার বেশ কষ্ট হবে।

 

লিখেছেন- এ এফ সৈকত 

মন্তব্য
Shell Advance

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
×