TVS Auto Bangladesh
Suzuki Hayate 110 ২১০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন - তারিকুল আলম প্রতীক) - দেশি বাইকার

Suzuki Hayate 110 ২১০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন – তারিকুল আলম প্রতীক)

আমার বাইক সুজুকি হায়াতে ১১০ সিসি, ২০১৮ মডেল। এই পর্যন্ত আমি প্রায় ২১ হাজার কিলোমিটার চালিয়েছি বাইকটা। ম্যাক্সিমাম টাইমেই আমি লং রাইড করেছি বাইকটা নিয়ে। ঢাকা-রাজশাহী আপ ডাউন করেছি ৬ বার। এছাড়াও অন্যান্য জায়গায় ঘুরতে তো গেছিই। বাইকটি নিয়ে লং রাইড করে খুব মজা পাই। যেহেতু এই বাইকটা আমি অনেকদিন ধরে চালাচ্ছি, সেহেতু এই বাইকের একটা ইউজার রিভিউ আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি।

 

প্রথমেই এই বাইকটির ভালো দিকগুলো তুলে ধরছি –

১। বাইকটির হ্যান্ডেল বেশ ভালো প্রশস্থ, সিংগেল পার্ট হ্যান্ডেল। এটার সিটটাও বেশ লম্বা ও আরামদায়ক। বাইকটি চালিয়ে আমি বেশ কমফোর্ট ফিল করি।

২। যদিও এটা রেডি পিক-আপের বাইক নয়, তারপরেও এটার এক্সেলারেশন পাওয়ারটা বেশি। এক্কেবারে ফাস্ট গিয়ার থেকে দ্রুত স্পীড উঠে।

৩। এটার ইঞ্জিন সাউন্ডটা খুব মসৃন। এক্সট্রা কোন নয়েজ নাই।

৪। এটার সাসপেনশনটা খুব সুন্দর ফিডব্যাক দেয়। বিশেষ করে রেয়ার সাসপেনশনটা।

৫। এটার সামনে ও পেছনে দুটো’ই হচ্ছে ড্রাম ব্রেক যা খুব সুন্দরভাবে কাজ করে।

৬। এটার মাইলেজ নিয়ে বলি এবার। আমি শহরের মধ্যে মাইলেজ পেয়েছি ৫৫ কিঃমিঃ এবং লং রাইডের সময় মাইলেজ পেয়েছি ৫৮ কিঃমিঃ। এটার মাইলেজ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।

৭। এটার টায়ার গুলো টিউবলেস, এটা আমার কাছে ভালো লেগেছে।

এবার এই বাইকটির খারাপ দিকগুলো তুলে ধরছি –

১। এটার হেডলাইট টা হ্যালোজেন লাইট, যেটা বর্তমান সময়ের সাথে আসলেও বেমানান। এইজন্য আমি এলইডি হেডলাইট লাগিয়েছি পরে।

২। এটার স্পিডোমিটার টা পুরাই এনালগ। এটলিস্ট একটা ডিজিটাল পার্ট রাখা যেতে পারত।

৩। বাইকটিতে আরপিএম মিটার নেই। এটা আমার কাছে ভালো লাগে নাই। কারন, ১১০ সিসির অন্যান্য বাইকে আরপিএম মিটার আছে।

৪। এটার পিছনের টায়ারটা অন্যান্য ১১০ সিসির বাইকের চেয়ে চিকন মনে হয়েছে। যার কারনে আমি টায়ার চেঞ্জ করার সময়ে এক সাইজ বড় টায়ার লাগিয়েছি।

<< আরো কিছু কথা >>

আমি কিভাবে এই বাইকটির মেইনটেইনেন্স করি সেটা সংক্ষেপে বলছি। প্রতি চার মাস পর পর সার্ভিসিং করাই। প্রতি ১৫ দিন পর পর স্পার্ক প্লাগ ক্লিন করাই, এয়ার ফিল্টার ক্লিন করাই, চেইন লুজ থাকলে টাইট দেয়াই, দুই চাকার প্রেসার ঠিক আছে কিনা সেটা চেক করাই। প্রতি দুই মাস পর পর বাইকের ক্লাচ ক্যাবল, এক্সেলারেশন ক্যাবল ও ব্রেক ক্যাবল লুব করাই। প্রতি ৯০০ কিলোমিটার পর পর ইঞ্জিন অয়েল (মিনারেল) পরিবর্তন করি এবং ১৮০০ কিলোমিটার পর পর অয়েল ফিল্টার পরিবর্তন করি।

আমার রিভিউটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

লিখেছেন – Tariqul Alam Protik

মন্তব্য

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
×