Suzuki Bangladesh
Yamaha FZ-S V2 DD ২৫০০কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন- রাকিবুল কবির হৃদয়) - দেশি বাইকার

Yamaha FZ-S V2 DD ২৫০০কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন- রাকিবুল কবির হৃদয়)

Tourino Tyres

আমি মোঃ রাকিবুল কবির হৃদয়, আমি বর্তমানে Yamaha FZs Fi V2 ডুয়াল ডিস্ক বাইকটি ব্যবহার করছি এবং একজন গর্বিত মালিক। আসলে গর্বিত মালিক বলার পিছনে কিছু কারণ আছে, সেই কারণ গুলোই আমি এই সংক্ষিপ্ত রিভিউ আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

আমি বাইকটি গত জুলাই মাসের ১৭ তারিখে ঢাকা মিরপুর ক্রিসেন্ট এন্টারপ্রাইজ থেকে বাইকটি ক্রয় করি। বাইকটি এখন পর্যন্ত ২৫০০ কিঃমিঃ চালিয়েছি, এই ২৫০০ কিঃমিঃ রাইডে যেসব অভিজ্ঞতা হয়েছে তাই আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো এই রিভিউয়ে।

প্রতিটা জিনিসের ই কিছু ভাল এবং খারাপ দিক রয়েছে, তবে আমার কাছে এখন পর্যন্ত এই বাইকের ভাল দিক ই বেশি। প্রথমেই কথা বলবো এর লুকস নিয়ে, বাইকটির লুকস বাংলাদেশের ন্যাকেড সিরিজের বাইকগুলোর মধ্যে একটু বেশি ভাল লাগে আমার কাছে।

একটি বাইকের গতির থেকেও বেশি প্রাধাণ্য পায় বাইকের ব্রেকিং, ব্যালেন্সিং, কন্ট্রোলিং এবং কম্ফোর্ট। যার প্রতিটা জিনিস ই আমি পেয়েছি এই Yamaha FZs V2 বাইকটিতে। যদি প্রথমে এর ব্রেকিং নিয়ে বলতে চাই এক কথায় বলবো অসাধারণ, ইমার্জেন্সি সময়ে এর ব্রেকিং খুব ভাল ভাবে করা যায় অবশ্য এটা অনেকটা রাইডারের উপরেও নির্ভর করে। তবে যতোবার ই আমি ইমার্জেন্সি ব্রেক করেছি কখনোই চাকা স্কিড করে নি আমার কাছে। আর এখন যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় দিনই বৃষ্টি হচ্ছে আর এই সময় টা বাইক রাইড কিন্তু আসলেই চ্যালেঞ্জিং, বাইকটি এই কন্ডিশনে পিচ্ছিল বা কর্দমাক্ত রাস্তায় প্রায়ই রাইড করছি তবে এখন অব্দি কোনো স্কিড ইস্যু পাই নি আমি।

এর পর এর কন্ট্রোলিং এবং ব্যালেন্সিং নিয়ে বললে বলবো এটি আসলেই সেরা এই ক্যাটাগরিতে। এর ওয়েট ডিস্ট্রিবিউশন, মোটা টায়ার সব মিলিয়ে অসাধারণ এক প্যাকেজ। সিটি কিংবা হাইওয়েতে কখনোই আমি কোনো প্রব্লেম ফেইস করি নি। সব মিলিয়ে বলা যায় এটি একটি আসলেই ওয়েল ব্যালেন্সড বাইক।

এছাড়া এর কর্ণারিং এবিলিটি অনেক ভাল, এর ওয়েল ব্যালেন্সড এবং ১৪০ সেকশন টায়ার এর কর্ণারিং এ বেশ কনফিডেন্স প্রদান করে।

এর পর আসবো অন্যতম ইস্যু কম্ফোর্ট নিয়ে, একটি বাইকের অন্যতম দিক হচ্ছে বাইকটি রাইড করে এর কম্ফোর্টনেস। সত্যি কথা বলতে Yamaha এর FZ সিরিজকে যে কম্ফোর্ট কিং বলা হয় তা আমি বাইকটি চালিয়ে বুঝেছি কেন বলা হয়। বাইকটি কিনেই লক ডাউনের সময় আমি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম প্রায় ৪০০কিঃমিঃ চালিয়ে এসেছি যেহেতু একদম নতুন বাইক ছিলো তাই ব্রেক ইন প্রিয়ড মেইন্টেইন করে আমি এসেছি যার ফলে আমার প্রায় ১৩ ঘন্টা সময় লেগে যায়, আর লম্বা সময়ে আমার কোনো রকম ব্যাক পেইন বা কম্ফোর্টে কোনো সমস্যা হয় নি।

এর পর বলবো যে ইস্যু টা নিয়ে সেটি হচ্ছে একটি বাইকের মাইলেজ, আমরা প্রথমেই দেখি বাইকের মাইলেজ কেমন আর এই বাইকটিতে যেহেতু Fi ইঞ্জিন ব্যবহার করেছে সেহেতু এর মাইলেজ ভাল হবে বলাই যায়। আমি সিটিতে ৪৮কিঃমিঃ এবং হাইওয়েতে প্রায় ৫৫ কিঃমিঃ মাইলেজ পাচ্ছি এভারেজে বলা যায় ৫০-৫২ কিঃমিঃ প্রতি লিটারে যা সত্যি অনেক ভাল বলার দাবিদার রাখেই।

বাইকটি বেশি ভাগ সময়ে সিটিতে রাইড করতে হয় বিশেষ করে ঢাকা শহরের তীব্র জ্যামে, তবে এর ফলে কখনো পেইন ফিল হয় নি কেননা এর সিটিং পজিশন এবং হ্যান্ডেলবার একজন বাইকারের সাথে একদম পারফেক্ট ভাবে সেট হয়।

এবার আসি এর সাস্পেনশন এর দিকে, বাইকটি সাস্পেনশন ভালই তবে আমার বাইকটি যেহেতু একদম নতুন তাই এই অবস্থায় কিছুটা হার্ড সাস্পেনশনটা এর জন্য কিছু সময় একটু আনকম্ফোর্ট মনে হয় তবে এটা দিনের সাথে সাথে আসতে আসতে ফ্রি হবে এবং ভাল ফিডব্যাক দিবে আশা করি।

তবে একটা কথা বলতেই হয় বাইকটি ট্যুরের জন্য পারফেক্ট একটি বাইক, একটানা দীর্ঘক্ষন এবং মাইলের পর মাইলের রাইড করলেও আপনার ক্লান্তি আসবে না।

প্রতিটা জিনিসের যেহেতু ভাল ও খারাপ দিক আছে সেহেতু এই বাইকের কিছু কিছু জিনিস আমার নিজের কাছে খারাপ মনে হয়েছে এর মধ্যে একটি হচ্ছে বাইকটি ভেজা বা কাচা মাটির রাস্তায় এর টায়ার থেকে ভাল গ্রিপ পাওয়া যায় না ফলে বাইকটি দুলতে দুলতে থাকে রানিং অবস্থায়। তবে এটা বড় কোনো ইস্যু না মনে হয় কারণ বাইকের স্টক টায়ার খুব একটা ভাল হয় না, তবে একটা ডুয়েল পার্পাস টায়ার ব্যাবহার করলে আশা করি এই প্রব্লেম আর হবে না।

বাইকটির আর একটি খারাপ দিক হচ্ছে এর কালার কোয়ালিটি, এর কালার কোয়ালিটি আরো ইম্প্রুভ করতে পারতো, মাত্র ২৫০০ কিঃমিঃ রাইডে বাইকের গ্রাব্রেইল, রিম, ডাবল স্ট্যান্ড সহ বেশ কিছু জায়গায় কালার উঠে গেছে যেটা আসলেই দুঃখজনক, এছাড়া সামান্য বালু কাদা ভেজা অবস্থায় রেখে দিলে বাইকের বিভিন্ন স্থানে জং দেখেছি যা খুবই খারাপ। যদিও এইসব হয়তো খুব বড় কোনো ইস্যু না তবে একজন প্যাশনেট বাইকারের কাছে এটি অনেক বড় কিছুই।

এই ছিলো আমার FZS-V2-DD এর ২৫০০ কিঃমিঃ রাইডিং অভিজ্ঞতা, সব মিলিয়ে বাইকটির পারফরমেন্স আমাকে হতাশ করে নি এখন পর্যন্ত, আমার রিভিউ এর শেষ টা করবো দুটি শব্দ দিয়ে Yes Yamaha. সকল বাইকারদের প্রতি রইলো আমার অবিরাম ভালবাসা ও স্যালুট। সকলকে ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য।

লিখেছেন- মোঃ রাকিবুল কবির হৃদয় 

 

মন্তব্য
Shell Advance

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
×