মোটরসাইকেলের সিসি বলতে কি বুঝায়? [সংজ্ঞা ও বিস্তারিত আলোচনা]

সিসি কি ??

আমার বাইক ১৫০ সিসি, আমার বাইক ১১০ সিসি। ফেজার ১৫০ সিসি, লিভো ১১০ সিসি। আমার বাইক ১৫০ সিসি বলে পাওয়ার অনেক বেশি,আপনার বাইক ১০০ সিসি বলে আমার বাইকের টেইল ল্যাম্পও দেখতে পারে নাহ ।

বাট, একচুয়ালি হোয়াট ইজ সিসি? একটা ইঞ্জিনের সিসি বলতে কি বুঝায়?

ইন্টারনেটের যুগে আমরা ম্যাক্সিমাম মানুষই জানি এটা সম্পর্কে, তারপরেও আজ আলোচনা করলাম।
আজ আমরা একটা সহজ এবং কমন বিষয় এই “সিসি” নিয়ে আলোচনা করবো।

engine cc# পিস্টন একটা সিলিন্ড্রিকাল শেপের ভিতর উঠা নামা করে। পিস্টনের মাথা একবার টপ ডেড সেন্টারে(TDC) উঠে,আবার বটম ডেড সেন্টারে(BDC) নামে। সিসি মানে সেন্টিমিটার কিউব বা কিউবিক সেন্টিমিটার যাই বলেন, এটা একটা আয়তন মাপার ইউনিট। পিস্টন যেই জায়গাতে উঠা নামা করে অর্থাৎ সিলিন্ডারের টপ ডেড সেন্টার থেকে বটম ডেড সেন্টার এর মধ্যকার জায়গার যেই আয়তন তাকে সেই ইঞ্জিনের Centimeter Cube(cm3) বা shortly CC বলে । এর অপর নাম Swept Volume (চিত্র নাম্বার ২ এবং ৩ দেখবেন)। মাল্টি সিলিন্ডার ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটা সিলিন্ডারের সিসি এর যোগফল হলো টোটাল ইঞ্জিনের সিসি।

আমরা জানি,

সিলিন্ডারের আয়তন = (πD^2L)/4
π= পাই, যা একটি ধ্রুবক। যার মান ৩.১৪১৬।

এখানে ,

D= সিলিন্ডার ব্যাস
L= সিলিন্ডার দৈর্ঘ্য
আর, ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে সিলিন্ডার ব্যাসকে বোর(Bore) বলে এবং সিলিন্ডার দৈর্ঘ্যকে(BDC point to TDC point) স্ট্রোক(Stroke) বলে।

Yamaha Fzs or fazer FI এর এক্সাম্পল দেই। ইহা ১৪৯ সিসি। কিভাবে ১৪৯ সিসি হয় একটু দেখি।
এই বাইকের স্পেসিফিকেশনে দেখলাম,
এর বোর(D)= ৫৭.৩ milimeter(mm) = ৫.৭৩ centimeter(cm)
স্ট্রোক(L)= ৫৭.৯ mm= ৫.৭৯ cm
তাই এর Swept Volume বা আয়তন =(πD^2L)/4= ৩.১৪১৬×(৫.৭৩)^২×৫.৭৯ ÷৪= ১৪৯.৩০= ১৪৯ cm3 (দশমিক এর পরের ডিজিট কে এভয়েড করলাম)
তাই ইয়ামাহা Fzs ba Fazer Fi বাইকের সিসি হলো ১৪৯ সিসি ।যেটাকে আমরা সহজ ভাষায় ১৫০ সিসি বলি।

ঠিক একি ভাবে Suzuki Gixxer এর কথা চিন্তা করি।
জিক্সারের ,
বোর (D)= 56mm= 5.6 cm
স্ট্রোক (L)= 62.9 mm= 6.29 cm
তাই এর আয়তন = (πD^2L)/4= ৩.১৪১৬×(৫.৬)^২×৬.২৯ ÷৪ = ১৫৪.৯ Cm3 বা ১৫৫ সিসি। যাকেও আমরা ১৫০ সিসি বলি সহজ ভাষায়।

Honda বাদ যাবে কেন?
HOnda CB Hornet 160R এর,
বোর(D)=57.3 mm= 5.7cm
স্ট্রোক (L)= 63.09 mm= 6.309cm
তাই এর আয়তন=(πD^2L)/4= ৩.১৪১৬×(৫.৭)^২×৬.৩০৯ ÷৪= ১৬২.৭ Cm3 বা ১৬৩ সিসি , যাকে আমরা সহজ ভাষায় ১৬০ সিসি বলি।

যত বেশি সিসি হবে,তত বেশি পাওয়ারফুল ইঞ্জিন হবে।
গ্যাসলিন বা পেট্রল ইঞ্জিনের ৪ স্ট্রোক বাইকের ১ম স্ট্রোক “ইন্টেক স্ট্রোক” স্টেইজ এ পিস্টন যখন TDC থেকে BDC টে নামে,তখন সে ইঞ্জিনের সিসি এর সমআয়তনের ফুয়েল – এয়ার মিক্সার নিতে পারে। এবং সেই আয়তনের মিক্সার কে কম্প্রেশন রেশিও অনুযায়ী কম্প্রেস করে এবং স্পার্ক ইগ্নিশান করে পাওয়ার জেনারেট করে ৩য় স্ট্রোক “পাওয়ার স্ট্রোকে”। তাই যত বেশি সিসি,তত বেশি পরিমান আয়তনের ফুয়েল-এয়ার মিক্সার ‘ইন্টেক স্ট্রোকে” ঢুকবে এবং তাকে কমবাস্ট করে তত বেশি পাওয়ার তৈরি করা যাবে। তাই সিসি বেশি হলে পাওয়ার বেশি তৈরি করা যায় ইঞ্জিন থেকে।

how engine work

৪ স্ট্রোক ইঞ্জিনের মেকানিজমঃ

কমপ্রেশন রেশিওঃ

TDC এর উপরে কম্প্রেসন এর জন্য কিছু সামান্য আয়তন ফাকা থাকে যাকে Clearance Volume বলে,সেটা কিনতু এই ইঞ্জিনের সিসি এর মধ্যে কাউন্ট হবে নাহ। শুধু মাত্র TdC point and Bdc point এর মধ্যকার আয়তনকেই ইঞ্জিনের CC বলে। (চিত্র ৩ দেখবেন)

কমপ্রেশন রেশিও হলো একটা ইঞ্জিনের সিসি এর আয়তন বা swept volume ফুয়েল- এয়ার মিশ্রিত গ্যাস কে কত গুন সঙ্কুচিত করা হয় ৪ স্ট্রোকের ২য় স্ট্রোক “কমপ্রেশন স্ট্রোক” স্টেপে,তাকে বলা হয় কমপ্রেশন রেশিও ।
পেট্রোল ইঞ্জিনে এই রেশিও হলো ৮-১৪
ডিজেল ইঞ্জিনে এটা থাকে ১৬-২০।

যেমন ইয়ামাহা Fzs-Fi ইঞ্জিনের কমপ্রেশন রেশিও 9.5 : 1 বলতে বুঝায় ইন্টেক স্ট্রোকে প্রাপ্ত Fuel-air গ্যাস কে এই ইঞ্জিন কমপ্রেশন স্ট্রোকে ৯.৫ গুন সঙ্কুচিত করে এরপর “পাওয়ার স্ট্রোকে” ইগ্নিশান করে। কমপ্রেশন রেশিও বেশি হলে পাওয়ার বেশি জেনারেট হয় সাধারনত।

একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন?
সিসি নির্ভর করতেসে দুইটা রাশির উপর।(সিঙ্গেল সিলিন্ডার)
১। সিলিন্ডার বোর বা সিলিন্ডার ব্যাস।
২। সিলিন্ডার স্ট্রোক বা সিলিন্ডার দৈর্ঘ্য
তাই দেখা যাচ্ছে, সিসি একি রেখে জাস্ট সিলিন্ডার বোর বাড়িয়ে,স্ট্রোক কমিয়ে এক রকম ইঞ্জিন বানানো যায় আবার বোর কমিয়ে স্ট্রোক বাড়িয়ে আরেক রকম সিলিন্ডার প্যাটার্নের ইঞ্জিন বানানো যায়। এবং প্রত্যেক প্যাটার্নের ইঞ্জিন বৈশিষ্ট অনেক ডিফারেন্ট।
এইরকম কিছু চেঞ্জ এনে সেইম একটা নির্দিষ্ট সিসি সেগমেন্টে ৩ টাইপ ইঞ্জিন বানানো জায়ঃ-
১। Over Square Engine
2. Square Engine
3. Under square engine.
নেক্সট পোস্টে এই ৩ ধরনের ইঞ্জিনের উদাহরণ এবং এদের পজিটিভ এবং নেগাটিভ বৈশিষ্ট নিয়ে আলোচনা করবো। এতে বাইক কিনার আগে একটু ঘেটে আপনার রাইডিং স্টাইল এর উপর ভিত্তি করে কোন টাইপ ইঞ্জিনের বাইক আপনার প্রয়োজন তা বুঝতে পারবেন কিছুটা।

আজ এই পর্যন্তই।

 

লিখেছেনঃ সাহেদ আহসান আবীর (মডারেটর – Fuel Injection Club BD -FCB)

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: