TVS Auto Bangladesh
Bajaj Avenger 150 ৪০,০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন - আবু সায়েদ চৌধুরী) - দেশি বাইকার

Bajaj Avenger 150 ৪০,০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন – আবু সায়েদ চৌধুরী)

Bajaj Avenger 150- 40000+ কিলোমিটার রিভিউ
আমি আবু সাঈদ চৌধুরী । আজ আমি আমার বাইক Bajaj Avenger 150 40000+ কিলোমিটার রাইড এর অভিজ্ঞতা নিয়ে আপনাদের কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো । আমি ঢাকা পশ্চিম নাখালপাড়া থাকি । পেশায় একজন ব্যাবসায়ী, আমার জীবনের প্রথম বাইক Tvs RTR 150 মডেল ২০১৫। বাইকের প্রতি দুর্বলতা ছিল অনেক কিন্তু চালতে পারতাম না সাহসের অভাবে। ২০১৫ সালে বিশেষ করনে বাইক কিনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।

 

আমার ছোটবেলার বন্ধু মাহাবুবুর রহমান ও হিমেল আমাকে চালানো শিখায় ও সাহস দেয় যার কারনে আমি বাইক চালানো শিখা হয়। তারপর প্রায় ২ বছর আমি Tvs RTR 150 ব্যবহার করি আর বাইকের প্রতি আমার ভালবাসা আরও বাড়তে থাকে। যখন জানতে পারি বাংলাদেশে Bajaj Avenger 150 বাইক আসতেছে তখন আমি আমার বাইক বিক্রি করে দিয়ে Bajaj Avenger 150 বাইকটি কিনি ২০১৭ সালে।

 

বাইকিং এর প্রতি অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। আসলে বাইকিং ভালোবাসার কারন বলে বুঝানো যাবে না । তারপরও বাইক টাই ভালবাসা আমার। নিজ স্বাধীন ভাবে যে কোন জায়গাতে যাওয়া যায় এবং সময় কম লাগে। Tvs RTR 150 বাইকটা বিক্রি করে Suzuki Gixxer বা Bajaj v15 এই ২ টি বাইকের মধ্যে কোনটা নিব ভাবছি । তখন দেখি Bajaj Avenger 150 বাংলাদেশে আসে। তখন আর কিছু না ভেবে ০৫/০৬/২০১৭ কিনে ফেলি পছন্দের বাইকটি, Bajaj Avenger 150 বাইকটি আমি ১,৯৯,৯০০/- টাকা দিয়ে কিনেছি। বাজাজ অথোরাইজ ডিলার পয়েন্ট Bajaj collection মোহাম্মদপুর এর শো রুম থেকে। আসলে নতুন কিছু কেনার অনুভুতি বলে বোঝান কঠিন। অসাধারন এক অনুভুতি ছিল সেদিন। আমার বন্ধুরা বাইক কেনার সময় আমার সাথে ছিল।

 

শোরুমে থেকে প্রথম বাইক স্টার্ট দেই তখন মনে অন্য রকম একটা ফিল পেলাম। এক কথায় অসাধারন অনুভুতি। বাইকটা নিয়ে রাস্তায় বের হলাম মানুষ কৌতুহলী হয়ে দেখছে আর বিভিন্ন প্রশ্ন করছে। বেশ ভালোই লাগতে ছিল বাইকের বিভিন্ন দিক গুলো নিয়ে সবার সাথে আলাপ আলোচনা করতে।
প্রথমত এর মাসকুলার লুকস, এর হেডলাইট গোল হওয়ায় ক্লাসিক একটি লুক আমাকে মুগ্ধ করেছে । এর সিট এর কথা এক কথায় অসাধারণ। বাইকটিতে আছে ৫ টি গিয়ার, ১৫০ সিসির একটি ইঞ্জিন, ডিক্স ব্রেক, টিউবলেস মোটা চাকা ,নতুন লুকস ঠিক যেমনটা আমার দরকার এবং পছন্দ ছিল। বাইকটিতে একটা অসাধারন অনুভুতি পাই। প্রতিদিন আমার কাছে বাইকটি নতুন এর মত মনে হয়। মনে হয় যে আজকেই বাইকটি কিনে আনলাম। আমার এই ৪০০০০+ কিলোমিটার রাইড বাইকে তেমন বড় কোন সমস্যা হয়নি, ক্লাস প্লেট, চেইন স্পোকেট ছাড়া তেমন কিছু এখন পর্যন্ত বদলাইনি। আমি নিয়মিত বাইকের সার্ভিস করাই ও ইন্জিন অয়েল বদলাই।

 

ব্রেকিং পিরিয়ডে ৪০০০/৫০০০ RPM এ ৪৫-৫৫ কিলোমিটার স্পীডে ব্রেকিং মেইনটেইন করে চালাতাম । তখন ৩৫+ কিলোমিটার প্রতি লিটারে মাইলেজ পাই । ব্রেকিং প্রিয়োড শেষ করার পরে ৬/৭ হাজার আরপিএম এ ৫০/৭০ কিলোমিটার গতিতে ৩৮+ মাইলেজ পাচ্ছি এভারেজ। এই বাইকে মাইলেজ নিয়ে আমার কোন প্রকার অভিযোগ নেই। বেশ ভালো একটা মাইলেজ পাচ্ছি।

 

বাসায় এসে আমি প্রতিদিন রাতে বাইকটি ভালো ভাবে মুছে রাখি। প্রতিদিন সকালে বাইক স্টার্ট দিয়ে ২-৩ মিনিট এমনি চালু করে রাখি। প্রতি ১০ দিন পরপর বাইক ওয়াশ করি (বৃষ্টির দিনের হিসেব অন্য)। প্রতি সপ্তাহে চাকার হাওয়ার প্রেশার চেক করি। মাসে একবার চেইন পরিষ্কার ও লুব ব্যবহার করি।
প্রথম ইঞ্জিন ওয়েল পরিবতন করেছি ৩৯০কিলোমিটার হবার পর। এরপর ২য় ইঞ্জিন অয়েল ৮০০কিলোমিটারে পরিবর্তন করি এবং সর্বশেষ ৩য় ইঞ্জিন ওয়েল ১৭৫০কিলোমিটারে পরিবর্তন করেছি। রিকমেন্ডেট ২০W৫০ মিনারেল ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার করছি। এখন ২০w৫০ গ্রেডের ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার করছি।
বাইকের স্টক কোন কিছু বদলায়নি এখনো। মডিফাইর মধ্যে শুধু শাড়ি গার্ড, পা দানি ও সাইলেন্সার গার্ড লাগিয়েছি। কিছু স্টিকার মডিফাই করেছি বাইকের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি বেশি স্পিডে বাইক চালাই না তারপরও এখন পর্যন্ত ১১৫কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা স্পিড তুলেছি ।

 

বাইকটির ভালো দিকঃ
# ক্লাসিক লুকস
# গোল হেডলাইট
# লম্বা সিট এবং কম্ফোর্ট সিটিং পজিশন

 

বাইকটির খারাপ দিকঃ
# সাসপেনসনে কট কট শব্দ করা। যদিও এখন সার্ভিস সেন্টার থেকে ঠিক করে দিয়েছে
# রং এর কোয়ালিটি আর একটু ভালো হতে পারত।
# পিছনে ডিস্ক ব্রেক থাকলে আরও ভালো হতো

 

বাইক নিয়ে অনেক লং ট্যুরে দিয়েছে। তবে সামনের মাসে টেকনাফে থেকে তেঁতুলিয়া যাওয়ার ইচ্ছা আছে। এখন পর্যন্ত বাইকটি আমি ৪০০০০+ কিলোমিটার চালিয়েছি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে । এর ব্রেকিং ও কমফোর্ট আমার বেশ ভালো লেগেছে । ১৫০ সিসি সেগমেন্টের ক্রুজার বাইকের মধ্যে Bajaj Avenger 150 কে মাইলেজ এর বস বলা যায়। বাংলাদেশ বাজাজ কোম্পানি কিছু কিছু ছোট খাটো বিষয়ে আর একটু ভালো করতে পারতো।

 

শখ ও বাইক ব্যবহার করে অভস্ত্য হয়ে গেছি। তাই বাইক নিয়ে স্বাধীন ভাবে সব জায়গাতে যাওয়া যায় কোন রকম ঝামেলা ছাড়া । সবশেষ আমার মতে পয়সা উশুল বাইক হচ্ছে এই Bajaj Avenger 150 বাইক। কম্ফোর্ট বেশি মাইলেজ স্টাইল এর মধ্যে ক্রুজার বাইক কিনতে চাইলে Bajaj Avenger 150 হবে আপনার জন্য পার্ফেক্ট একটি বাইক ।
ধন্যবাদ।
লিখেছেন – Abu Sayed Chowdhury
মন্তব্য

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
×