Motul কেন বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে?

আমরা বাংলাদেশীরা ইউরোপিয়ান পণ্যের প্রতি সব সময় একটু বেশি ঝুঁকে থাকি। সেই সাথে মটোজিপিতে নানা সময় স্পন্সর করার কারণে Motul এর লোগোটা মানুষ বেশ ভাল ভাবেই চেনে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল সেগমেন্টে মতুলের জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মত। ফ্রান্সের এই লুব্রিকেন্ট ব্রান্ডটি মোটরসাইকেল, গাড়ি এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল লুব্রিকেন্ট প্রস্তুত করে থাকে। এছাড়া তাদের লাইন আপে ফুয়েল এডিটিভস এবং ক্লিনারের মত নানা পণ্য দেখা যায়।

লুব্রিকেন্ট মার্কেটের ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং এ Motul অবস্থান সেরা ৫০ এ (সূত্রঃ ব্রান্ড ডিরেক্টরি) না থাকলেও ফ্রান্সে তাদের অবস্থান ৩য়। এবং সেই সাথে মোটরসাইকেল সেগমেন্টে তাদের ফোকাস বেশি হওয়ায় মোটরসাইকেলিস্টরা মতুলকে ভাল ভাবে গ্রহণ করে।

বাংলাদেশে মতুলের প্রথম ধাক্কাঃ

কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে Motul -এর অথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটর ছিল দেওয়ান মোটরস, যা পরবর্তীতে র‍্যাংকন মোটরবাইকস এর কাছে চলে যায়। দেওয়ান মোটরস বাংলাদেশে Liqui Moly আনতে শুরু করলে ইতোঃপূর্বে যেসব ডিলাররা সারা দেশে মতুলে পণ্য বিক্রি করত, তাদের বেশির ভাগই লিকুই মলির দিকে ঝুঁকে পরে। আর যার কারণে লিকুই মলি’র পণ্য খুব সহজে জেলা সদরগুলোতে পৌঁছে যায়।

বাংলাদেশে মতুলের দ্বিতীয় ধাক্কাঃ

২০২০ এর আগষ্টে শার্লি এবদো ম্যাগাজিনে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ, দুটি ভবনে তা প্রদর্শন ও তাতে ফরাসি রাষ্ট্রপতির সমর্থন জানানোর প্রতিবাদে মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশের মানুষ ফ্রেন্স পণ্য বয়কট করে। #BoycottFrenchProducts হ্যাশট্যাগের ঝড় ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফ্রান্সের পণ্য হওয়ায় বাংলাদেশী মোটরসাইকেলিস্টরাও মতুল বর্জনের ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়েছিল। এর একটা প্রভাব হয়তো দারুণভাবে বুঝতে পেরেছিল বাংলাদেশে মতুলের তখনকার এবং বর্তমানের ডিস্ট্রিবিউটর র‍্যাংকন মোটরবাইকস।

একাধিক ডিস্ট্রিবিউটরঃ

যদিও বাংলাদেশে মতুলের অথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটর র‍্যাংকন মোটরবাইকস। কিন্তু কম সংখ্যক মানুষ এবং ব্যবসায়ী তা জানে। একই পণ্য বাংলাদেশে ডিস্ট্রিবিউট করে থাকে রাজশাহীর রয়েল ইন্টারপ্রাইজ। এছাড়া আরো বেশ কিছু ইম্পোর্টার ভারত থেকে বাল্ক আকারের মতুলের পণ্য এনে দেশে সরবরাহ করে। তাই কোনটি কে আনছে, কোনটি জার্মান স্ট্যান্ডার্ড, কোনটি ইন্ডিয়ায় ম্যানুফেকচার হয়েছে, এটা জানা বা বোঝা বেশ কঠিন ব্যাপার। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা বরং এই রিটেইল ব্যবসায়ীরাও এ ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন।

পাইকারী দামের তারতম্যঃ

অথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটরদের তুলনায় অন্যান্য ইম্পোর্টাররা কম দামে রিটেইলারদের মতুলের পণ্য অফার করে। আর তাই রিটেইল ব্যবসায়ীরাও বেশি দামে র‍্যাংকন কিংবা রয়েল ইন্টারপ্রাইজের কাছে মতুল নিতে আগ্রহ দেখায় না।

নকল মতুলঃ

অথরাইজড এবং আনঅথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটরের পাশাপাশি ভেজাল পণ্যের খবরও প্রায়ই পাওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে যশোরে, মতুলের নকল পণ্য উৎপাদনের কথা এই ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই জানে। তাই মোটরসাইকেল চালকদের মাঝেও অরিজিনাল মতুল না পাওয়ার ভয় সব সময় কাজ করে।

র‍্যাংকনের সুজুকি কেন্দ্রিক চিন্তা-ভাবনাঃ

বাংলাদেশে সুজুকি মোটরসাইকেলের সোল ডিস্ট্রিবিউটর এবং ম্যানুফেকচারার এই র‍্যাংকন মোটরবাইকস। যেহেতু তারা বাংলাদেশে সুজুকি এর অনেক মোটরসাইকেল বিক্রি করে এবং তাতে মতুলের ইঞ্জিন অয়েল রিকমেন্ড করে থাকে, তাই সেলস আফটার সার্ভিস এবং ইঞ্জিন ওয়ারেন্টির জন্য সুজুকি ব্যবহারকারীরা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মতুলের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করে। যেহেতু সারা দেশে সুজুকির অনেক সেলস এবং সার্ভিস সেন্টার রয়েছে, তাই খুব সহজে হয়তো র‍্যাংকন তাদের বাৎসরিক টার্গেট ফিল আপ করে ফেলে। তাই আলাদাভাবে রিটেইল মার্কেট এবং ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল নিয়ে তাদের না ভাবলেও হয়তো চলে। আর তাই অনেকেই ধরে নিচ্ছে সুজুকির জন্যই মতুল এবং অন্যান্য ব্রান্ডের মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা মতুল ব্যবহারে কিছুটা অনুৎসাহিত হচ্ছে।

অনলাইনে অথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটরের ফোকাস কমঃ

সাধারণত প্রত্যেকটি ইঞ্জিন অয়েল ব্রান্ড বাংলাদেশে তার অবস্থান তৈরী করতে এবং অরিজিনাল পণ্য যাতে মানুষ কিনতে পারে তাই ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং অনলাইন ই-স্টোর অফার করে। কিন্তু গুগল কিংবা ফেসবুকে সার্চ করলে মতুলের ব্যাপারে যে তথ্য পাওয়া যায় তা অনেকটাই ধোঁয়াশা। অনলাইনে অরিজিনাল পণ্যও খুঁজে পাওয়াটা কঠিন।

অরিজিনাল মতুল তাহলে পাওয়া সম্ভব?

অনলাইনে অরিজিনাল মতুল অর্ডার করতে পারেন www.vovopip.com -এ যারা শুধু মাত্র অথরাইজড ডিস্ট্রিবিউটরদের থেকে সংগৃহীত পণ্য ডেলিভার করে থাকে। এছাড়াও সুজুকি মোটরসাইকেলের অথরাইজড ডিলার পয়েন্টে অরিজিনাল মতুল পাবেন।

তাহলে কি রিটেইল শপের সব পণ্য আন-অথরাইজড বা নকল?

উত্তরঃ না। তবে কোন রিটেইল শপ কার কাছে মতুল সংগ্রহ করে। যদি কোন ডিলারের কাছে হয়, তাহলে সেই ডিলার কোন ডিস্ট্রিবিউটের কাছে কেনে সেটা যাচাই করে নিতে হবে। যেটি আসলেই অনেকটা দুঃসাধ্য এবং এ ব্যাপারে রিটেইল শপ আপনাকে তা জানানোর ব্যাপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করবে।

Related Posts

Add Comment