Suzuki Bangladesh
Shell Advance 10W30 ফুয়েল সেভ ইউজার রিভিউ - দেশি বাইকার

Shell Advance 10W30 ফুয়েল সেভ ইউজার রিভিউ

Tourino Tyres

শেল বাংলাদেশের বাইকারদের কাছে পরিচিত নাম, বেশ দীর্ঘদিন থেকে ইঞ্জিন অয়েলে বেশ সুনাম অর্জন করে আসছে। কিছুদিন আগে শেল তাদের নতুন দুটি ইঞ্জিন অয়েল বাজারে নিয়ে আসে একটা হচ্ছে 10W40 Long Ride যেটা শেল বলছে ৬০০০কিঃমিঃ চালানো যাবে, তবে বাংলাদেশের আবহাওয়া বিবেচনা করলে এটা ৪৫০০কিঃমিঃ ভাল ভাবেই চলবে বলে আশা করি , আর একটা প্রডাক্ট হচ্ছে 10W30 Fuel Save যেটাতে বলা হয়েছে রেগুলার ইউজের ফলে এটা থেকে প্রায় ৫ কিঃমিঃ মাইলেজ বেশি পাওয়া যায়। তো আমি এই প্রমানের জন্যই টেস্ট ড্রাইভে বের হয়ে যাই আমার হাংকে নতুন ফুয়েল সেভ ইঞ্জিন অয়েল দিয়ে।

আমার রাইডের রোড ছিলো ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা, সবচেয়ে অবাক করার বিষয় ফুল সিন্থেটিক অয়েল সাথে এক্সট্রা মাইলেজ সুবিধা থাকা স্বত্তেও এর বাজার মূল্য অন্যান্য সকল ব্রান্ডের ইঞ্জিন অয়েলের চেয়ে অনেক কম মাত্র ৭৫০/-। প্রথমে ভেবেছিলাম এই দামে আসলেই কি ভাল পারফরম্যান্স দিবে একটা সংশয় ছিলো। কিন্তু এটা দিয়ে রাইডের পর আসলেই কিছু বড় চেঞ্জ লক্ষ্য করেছি। শেল এর একটা অন্যতম বড় ভাল গুন হচ্ছে এর ইঞ্জিন স্মুথনেস এবং স্মুথ গিয়ার শিফটিং, ঠিক বরাবরের মতো এবারো সেই বিশেষত্ব ধরে রেখেছে। প্রথম ১০০ কিঃমিঃ আমি আসলে তেমন বুঝতে পারি নি, আমার বাইকে মতুলের সিন্থেটিক ব্যবহার করা হতো আর সেই সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো প্রচন্ড ভাবে ওভার হিটিং আর ইঞ্জিনের বাজে সাউন্ড। আমি সিন্থেটিক এ আসার আগে শেলের মিনারেল ব্যবহার করতাম কিন্তু শেলের সিন্থেটিক না থাকায় পরে মতুলে যাই।

এবার ট্যুরে এই শেলের নতুন টি দেয়ার পর প্রায় ১৫০কিঃমিঃ রাইডের পর মনে হচ্ছিলো না কিছু একটা পরিবর্তন আসছে। যদিও এটা ফুয়েল সেভ তাই আমি মাইলেজ টা হিসাব করবো ট্যুর শেষে ঢাকা ফিরে। তাই অন্যান্য দিক গুলো খেয়াল করেছি। শেলের ইঞ্জিন স্মুথনেস জিনিসটা এই ইঞ্জিন অয়েলে ধরে রেখেছে কেমন জানি একটা স্মুথ সাউন্ড হয়ে যায় সাথে গিয়ার শিফটিং ও বেশ স্মুথ। তবে আমার যে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলো ইঞ্জিন হিটিং ইস্যু এটা আসলেই অভাবনীয় যে এই ট্যুরে টানা ৪০০ কিঃমিঃ+ রাইডের পরেও আমি এমন কোনো ইস্যু নেই যেটা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগছে।

এই কক্সবাজার ট্যুরে টোটাল রাইড করেছি ১২০০ কিঃমিঃ প্রায়, এর মাঝে ইঞ্জিন অয়েল নিয়ে কোনো সমস্যা আমি ফিল করি নি, শেলের একটা সমস্যা ছিলো আগের মিনারেল গুলোতে হাই রেভে গিয়ে কিছুটা পাওয়ার লুস করে, যেটা আমি এই নতুন অয়েলে পাই নি, বেশ কিছুক্ষন আমি এক টানা হাই রেভে চালিয়েছি এমন কোনো সমস্যা পাই নি। ঢাকাতে আসার পর আমি যখন এর মাইলেজ টেস্ট করলাম সত্যি অবাক হলাম হাংকে আমি ৩৮-৪০ এভারেজ মাইলেজ পেতাম এই কক্স ট্যুরে আমি মাইলেজ পেয়েছি ৪২কিঃমিঃ। যেখান থেকে বলতেই পারি যে এই ইঞ্জিন অয়েলে ৩-৪ কিঃমিঃ মাইলেজ বেশি পাওয়া যাবে, বিশেষ করে যারা সিটি রাইড করবে তাদের জন্য এটা অনেক উপকারী হবে। আমি হাইওয়েতে রেগুলার হাই রেভে বাইক চালিয়েছি সেই তুলনায় যদি ২ কিঃমিঃ মাইলেজ বেশি পাই তাহলে যারা সিটি রাইড করবে তাদের জন্য এটা আরো বাড়বে বলে আশা করি।

আর শেলের এই ইঞ্জিন অয়েলটি বাজারে বেশ সাড়া ফেলবে, কেননা 10W30 গ্রেডে বাজারে ভাল মানের কোনো ইঞ্জিন অয়েল নেই বললেই চলে, আর বাংলাদেশের মাঝে কমিউটার সেগমেন্টের Hero, Honda, TVS  এর বাইক সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করে আছে, তাই এই ইঞ্জিন অয়েলটি বাজারে বেশ সাড়া ফেলবে এবং পারফরমেন্স আশা করি সকলের ভাল লাগবে।

আর একটা কথা যেকোন ইঞ্জিন অয়েল টেস্ট করতে হলে মিনিমাম ৩ টা অয়েল ইউস করলে তার আসল পারফরমেন্স বুঝা যায়। আর একটা কথা সবসময় আপনার বাইকের জন্য রিকোমেন্ডেড ইঞ্জিন অয়েল গ্রেড অনুযায়ী ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করুন।

 

মন্তব্য
Shell Advance

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
×