TVS Auto Bangladesh
Suzuki Gixxer SF ৮০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন - বেলায়েত হোসেন) - দেশি বাইকার

Suzuki Gixxer SF ৮০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন – বেলায়েত হোসেন)

আসসালামু আলাইকুম, সুজুকি এর সাথে পথ চলা বেশিদিন এর নয় এইত আজ হতে 400 দিন এর মত প্রায়, একজন পেশনেট বাইকার হিসাবে যে কোন বাইকের প্রতি আমাদের সকলেরই একটা আত্যাধিক আকর্ষন থেকেই থাকে, ছোট বেলা থেকেই বাইক এর প্রতি একটা অদম্য নেশা ছিল,কবে বড় হব কবে আমার একটা নিজস্ব মোটর বাইক হবে, এসব এখন অতিত, আজ হতে ৯ বছর আগেই বাইক চালানো রপ্ত করি, আল্লাহ এর অশেষ রহমতে কখনো বিপদ এর সম্মুখীন হতে হয় নি, বাইক রীতিমতো আমি দেখে শুনেই চালাতাম, কিন্ত বাইক কি ভাবে কাজ করে, বাইক এর ইঞ্জিন, কার্বুরেটর, সিলিন্ডার হেড, স্পার্ক প্লাগ, লুব,গিয়ার অয়েল, এসব এর কিছুই জানতাম না ধীরে ধীরে আমি এসব বিষয় দেশি বাইকার সহ বিভিন্ন গ্রুপে দেখতে পাই এবং বুঝতে চেষ্টা করি, কখনো বুঝতে না পারলে সেটা নিয়ে আমি ইউটিউবএ বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেখতে শুরু করি এবং আজ আমি ১০০% না হলেও ৮০% নিশ্চিত এসব বিষয় পানির মত বুঝতে সহ্মম |

ইতি মধ্যে আমি আমার সুজুকি জিক্সার এস এফ বাইক এ প্রথম লং ট্যুর দেই, কুড়িগ্রাম থেকে তেতুলিয়া, বাংলাবান্ধা আলহামদুলিল্লাহ কোন রকম সমস্যা ছাড়াই ট্যুর শেষ করতে পারি | ব্যাক্তিগত ভাবে আমার প্রথম বাইক সুজুকি জিক্সার এস এফ, ২০১৯ এর ২৯ ডিসেম্বর নিজ জেলা থেকে ক্রয় করে থাকি, এখন পযন্ত ৮০০০ কিঃমি চালিয়েছি, আগে থেকে বাইক এর সব বিষয় জানা থাকায় বাইক এর ব্রেকিং পিরিয়ড রীতিমতো সুন্দর ভাবেই শেষ করেছি।

এখন আসি বাইক এর ব্রেকিং পিরিয়ড কি? আমরা যখন একটা নুতন বাইক ক্রয় করে থাকি বাইক এর ইঞ্জিন এর ভেতরের অংশ গুলো মস্রিন থাকে না, এসময় আমাদের খুব সাবধান এর সহিত এক্সিলারেশন ব্যবহার করতে হয়! ব্রেকিং পিরিয়ড টাইম এ বাইক এর স্পিড খুব বেশি না তুলাই উত্তম,বাইক এর আর পি এম মেইনটেইন করে চলতে হয়, এতে বাইক এর ইঞ্জিনের ভেতরের অংশ গুলো সুন্দর ভাবে মস্রিন হয়ে আসে, ব্রেকিং পিরিয়ড টাইম বলতে আমারা বুঝে থাকি ১৫০০-২০০০ কিঃমি তবে একটু সময় নিয়ে স্পিড না তুলে, আর পি এম মেইনটেইন করে ২৫০০ কিঃমি পযন্ত চলানোই উত্তম ব্যাক্তিগত ভাবে আমার মতে I

আমি ব্রেকিং পিরিয়ড শেষ করি, আমাকে শো-রুম থেকে আমার ইঞ্জিন মেনুয়াল এর সাথে যে গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল সাজেস্ট করা হয় প্রথমে আমি সেটা বাইক এর ৩০০ কিঃমি এর মধ্যে ড্রেইন দেই, ইঞ্জিন অয়েল নিয়ে ততটাও জানতাম না এখন যত টা জানি, একদিন আবু নাসিম শাকিল ভাই এর সাথে দেখা হয়, আমি ভাই এর কাছে জানতে চাই আমার বাইক এর কোন ইঞ্জিন অয়েল টা পারফেক্ট ভাবে কাজ করবে মনে হয়, তখন তিনি আমাকে বলে আমি আমার পালসার এ শুরু থেকে আজ অব্দি শেল এডভান্স ব্যাবহার করে আসছি, তখন ভাই আমাকে শেল এডভান্স 20w40 এই ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করার পরামর্শ দেন, ভাই এর প্রতি অঘাত বিশ্বাস থাকায় আমি এটি ব্যাবহার করতে থাকি এবং এখন পর্যন্ত ব্যবহার করে আসছি, স্মুথ সাউন্ড, ইঞ্জিন অভার হিট না হওয়া সব মিলে আমার কাছে পারফেক্ট মনে হয়।

বাইক এর অন্যতম অংশ এর মধ্যে বাইক এর চেইন, চেইন স্পকেট অন্যতম, আমরা অনেকেই বাইক এর এই বিষয় গুলো নিয়ে ভাবি না, বাইক এর চেইন এর যত্ন একটা বাইক এর জন্য অতি প্রয়োজনীয় বাইক এর চেইন সর্বদা পরিষ্কার রাখা ভালো এতে বাইক এর চেইন স্পোকেট বেশি একটা হ্মতি হয় না বলে আমি মনে করি, আমরা বাইক এর চেইন এ বিভিন্ন লুব বা ভালো মানের গিয়ার অয়েল ব্যাবহার করতে পারি, বাইক এর চেইন মেইনটেইনঃ আমি আমার সজুকি জিক্সার এস এফ, এর চেইন পরিষ্কার রাখার প্রতি খুবই সচেতন,প্রথম থেকেই বাইক এর চেইন নিজেই মেইনটেইন করে থাকি, কি ভাবে আমি করে থাকি আমার অভিজ্ঞতা সেয়ার করছি, প্রথমত বাইক এর চেইন লুবরিকেট করতে চাইলে, বাইক এর চেইন অবশ্যই গরম রাখতে হবে, চেইন গরম রাখার উদ্দেশ্য একটাই চেইন এ যে ওয়েল আমরা দিব সেটা চেইন এর প্রত্যেক গ্যাপে পৌঁছাবে, অয়েল ব্যাবহার এর হ্মেত্রে আমি বলব দেখে শুনে যেটা ভাল মনে হবে সেটাই ইউজ করবেন, আমি প্রথম থেকেই WD-40 ইউস করে আসছি, আমরা অনেকেই বোকামি করে চেইন এ ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহার করি এটা আমাদের বাইক এর চেইন এর জন্য কোন উপকারই আসে না বরং ইঞ্জিন ওয়েল ব্যবহারে বাইক এর চেইন এ ময়লা জমে প্রচুর পরিমানে, চেইন লুবরিকেট করতে প্রথমত পরিষ্কার কাপর নিতে হবে, তার পর চেইন এর উপরে নিছে ভালো ভানে চেইনলুব ব্যাবহার করতে হবে এবং কিছুহ্মন রেখে দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে, এতে চেইন এর সকল ময়লা পড়ে যাবে এবং চেইন এর সকল পয়েন্ট ঠিক থাকবে |

আমার সুজুকি জিক্সার এস এফ এর ব্রেকিংঃ আমি প্রথম থেকেই আমার বাইক এর ব্রেকিং এ আমি সন্তুষ্ট, সুজুকি জিক্সার এর ট্রেকিং কন্ট্রলিং আমার কাছে ব্যাক্তিগত ভাবে অসাধারন, এতি মধ্যে আমি অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ২ বার বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলাম আল্লাহ এর অশেষ রহমতে খুব সেফ্লি বের হয়ে আসতে সহ্মম হই।

সুজুকি জিক্সার এস এফ এর মাইলেজঃ আমার বাইক এর মাইলেজ এ আমি সন্তুষ্ট, প্রথম দিকে মাইলেজ কম দিলেও আস্তে আস্তে মেকানিক এর পরামর্শ, অনুজাই বাইক এর মাইলেজ ধিরে ধিরে বাড়তে থাকে, এখন পযন্ত আমার বাইক ৮০০০ কিঃমি চলার পরেও মাইলেজ আমি ৪৫-৫০ এর মধ্যে পাচ্ছি, প্রথম থেকেই আমি আমার বাইক এ ফুয়েল হিসেবে অক্টেন ব্যাবহার করে আসছি, আমাদের অনেকের ধারনা বাইক এ অক্টেন এবং পেট্রোল মিস্রন করে বাইক চালালে বাইক এর মাইলেজ এবং ইঞ্জিন ভালো থাকে, আসলে এটা আমাদের ভূল ধারনা, অক্টেন এবং পেট্রল এর রাসায়নিক ধম বা কাযহ্মমতা কোন ভাবেই এক না, এদের মধ্যে একেক জনের একেক রকম কাযহ্মমতা আছে, তাই আমাদের উচিত আমাদের বাইক এর মেনুয়াল বুক অনুযাই বাইক এ ফুয়েল ব্যাবহার করা এতে আমাদের বাইক এর মাইলেজ, ইঞ্জিন দুটোই ভালো থাকবে। আসুন সর্বদা সবাই ট্রাফিক আইন মেনে বাইক রাইড করি, পরিবারের কথা চিন্তা করে ভালো মানের সার্ফাটিইড হেলমেট ব্যাবহার করি এবং অন্য কে ব্যাবহার করতে উৎসাহিত করি্।

লিখেছেন- বেলায়েত হোসেন 

মন্তব্য

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
×