TVS Auto Bangladesh
TVS Apache RTR 160 ৬৫০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ ( লিখেছেন - সৈয়দ ইশতিয়াক রিফাত) - দেশি বাইকার

TVS Apache RTR 160 ৬৫০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ ( লিখেছেন – সৈয়দ ইশতিয়াক রিফাত)

আসসালামু আলাইকুম, আমি সৈয়দ ইশতিয়াক রিফাত। পেশায় এখনো ছাত্র,পড়াশোনা করছি ঢাকা মেডিকেল কলেজে। ছোটবেলায় স্কুল কিংবা প্রাইভেট এর ফাঁকে ফাঁকে বন্ধুরা নিলে নিয়মিত সাইকেল নিয়ে অচেনা রাস্তার এডভেঞ্চার খুজতে বের হতাম। আর যখন একটু বড় হলাম, বুঝতে পারলাম সাইকেলের থেকেও বাইকে করে বেশী এডভেঞ্চারে খুজতে পারা যায়। বাবার কাছে বাইক চালানো শিখলাম Honda cd 80 দিয়ে। ক্যাম্পাস লাইফের ফার্স্ট ইয়ারে এসে প্রথম দেখলাম, আমার এক বন্ধু নিজের টাকায় নিজের বাইক কিনেছে।সেদিন আমারও খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো নিজের বাইক কিনার জন্য।বাবা ততোদিনে পরপারে চলে গেছেন।তাই নিজের স্বপ্নের দামটাও নিজেকেই চুকাতে হয়।

 

ধীরে ধীরে হাতখরচের টাকা,টিউশন-কোচিং এর টাকা জমিয়ে আর কিছু টাকা বন্ধুর থেকে ঋণ করে ২০১৯ সালে কিনে ফেললাম নিজের জীবনের প্রথম বাইক Hero Ignitor. এক বছর চালানোর পরে অনুভব করলাম হাইওয়ে কিংবা বড় ট্যুরে যাবার জন্য আমার আরেকটু ভারী এবং শক্তিশালী বাইকের প্রয়োজন। আবারো ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করলাম। আর নিজের উপার্জিত অর্থের সঞ্চয় থেকে কিনে ফেললাম Apache RTR 160 2V Matt Red Single Disk Edition. ২০২০ সালের লকডাউনে যখন অলস এবং নিরস সময় পার করছি তখন এই বাইকটাই আমার জীবনে প্রাণ ফিরায়ে আনে। বাইকিং নিয়ে চুড়ান্ত পাগলামো করতে থাকি এই বাইকটা নিয়ে।

 

হাইওয়ে ট্যুর, অফরোডিং, সিটি রাইড, আর লং ট্যুর।কি এক্সপেরিয়েন্স করা বাকি একটা বাইক দিয়ে !! মোটকথা আমার গত একটা বছর ধরে আমার এডভেঞ্চার সঙ্গী হিসেবে ছিলো আমার এই লালপরী। এক বছরে চালিয়েছি ৬৫০০ কিলোমিটার। তো আজকে আমার Apache RTR 160 2V নিয়ে এই ৬৫০০ কিলোর রাইডিং এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করবো ভালো ও মন্দ দিক আকারে। আর শেষের দিকে TVS Bangladesh এর সার্ভিস সেন্টারের কোয়ালিটি আর এই বাইকটা কি সাজেস্ট যোগ্য কিনা সেই আলোচোনাও থাকবে।

 

ভালো দিকঃ
১. এগ্রেসিভ লুকঃ ১৬০ সিসি এর প্রিমিয়াম কমিউটার সেগমেন্ট এ Apache RTR 2V এর লুক এখোনও অন্যতম সেরা। এই সেগমেন্ট এ এর কম্পিটিটর Bajaj Pulsar কিংবা Hero Hunk এর চেয়েও এর লুক অনেক বেশী এগ্রেসিভ।
২.পাওয়ারফুল ও দীর্ঘস্থায়ী ইঞ্জিনঃ RTR এর ইঞ্জিন নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ ছোট্ট একটুও অসন্তোষ প্রকাশ করে নি।অসাধারণ পাওয়ারফুল এবং টেকসই একটি ইঞ্জিন। হাইওয়ে ট্যুর করার সময় কখোনো নিজেকে অসহায় ফিল করবেন না।এমন অনেক হয়েছে আমি টানা ৪০০ কিলো রাইড করেছি এবং এই পুরো ট্যুরে একটি গাড়িও আমাকে ওভারটেক করতে পারে নি।
৩. এক্সস্ট এর সাউন্ডঃ এককথায় বুকের হৃদস্পন্দনের সাথে ম্যাচ করে এর সাউন্ড। আমি হাইওয়ে ট্যুরে কখনো টানা রাইড করেও সাউন্ড ফেটে যায়নি।আমি সেই ২০১২ সালের মডেলের RTR দেখেছি এক লক্ষ কিলো চলেছে কিন্তু বাইকের সাউন্ড একবিন্দুও চেঞ্জ হয়নি।
৪.বাইকের বিল্ট কোয়ালিটিঃ আমার কাছে আমার বাইকের বিল্ট কোয়ালিটি নিয়ে কোনো অসন্তোষ নেই।অনেক মজবুত বিল্ট কোয়ালিটি। যখনই বাইকে বসি তখনই নিজেকে অনেক বেশী পাওয়ার ফুল আর কনফিডেন্ট লাগে এর বিল্ট কোয়ালিটি এর জন্য। আমার কোনো এক্সসিডেন্ট এক্সপেরিয়েন্স নেই আলহামদুলিল্লাহ। তবে অনেক এক্সিডেন্ট হয়েছে এমন গাড়িও দেখেছি তেমন কিছুই হয়নি গাড়ি হেড লাইট কিংবা প্লাস্টিকের মাডগার্ড স্ক্রাচ কিংবা ভাঙ্গা ছাড়া। তবে মারাত্মক এক্সিডেন্ট করলে যেমন, ট্রাকের তলে বাইক চলে গেলে সেখানে আসলে কোনো বিল্ট কোয়ালিটিই টিকতে পারবে না।
৫. বাইকের সিট কুশনিংঃ বাইকের সিট টি অনেক বেশী নরম।ইভেন আমি যেই বাইকেই বসিনা কেনো আমি আমার RTR এর সিটকে মিস করি। অনেক বেশী আরামদায়ক বসার সিট। এবং পিলিয়ন সিটও অনেক ওয়াইড হবার কারণে পিলিয়নও শান্তিতে বসতে পারে।
৬. সাসপেন্সনঃ একদম নদীর মাঝের বালিচর কিংবা বেল লাইনের পাথর কিংবা ভাঙ্গাচুরা মাটির রাস্তা। এই বাইকের সাসপেন্সন আমাকে সবসময়ই অনেক বেশী স্যাটিসফাই করে রেখেছে।
৭.হিউজ ফুয়েল ট্যাংক ও ভালো মাইলেজঃ এর ফুয়েল ট্যাংক ১৬ লিটার।যা বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ফুয়েল ট্যাংক। এরই সাথে যুক্ত হয়েছে অসাধারণ মাইলেজ।গাড়ির নিয়মিত মেইনটেনেন্স করে আমি আমার গাড়ি থেকে সিটি রাইডে ৪৫-৫০ এবং হাইওয়ে রাইডে ৫০-৫৫ পর্যন্ত মাইলেজ পাই।যা এই পরিমান শক্তিশালী একটা ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে অভাবনীয়। তবে মাইলেজ চালানোর স্টাইল এবং ফুয়েলের কোয়ালিটি এর উপর নির্ভর করে।ঢাকায় গেলে আমার বাইকের মাইলেজ ৪০ এও নেমে আসে। আবার একদম হাই রেভ করে গাড়িকে অনেক বেশী প্রেসারে চালানো হলে মাইলেজ আরো কমে।যেমন আমি মাওয়া এক্সপ্রেস ওয়ে তে আমার টপ স্পীড ট্রাই করি।১৩৩ টপ স্পীড আমি উঠাতে পারি।কিন্তু টপ স্পীডের জন্য গাড়িকে যেহেতু কন্টিনিউয়াস ফোর্স করছিলাম এজন্য সেদিন গাড়ির মাইলেজ ৩৫ এ চলে এসেছিলো। এবং ঐদিনই আমার গাড়ি সর্বনিম্ন মাইলেজ দিয়েছিলো। আর স্বাভাবিক ভাবে চালালে আবার আগের মতোন।
৮. পার্টসের এভেইলএবল এবং দাম কমঃ পুরো বাংলাদেশ জুরে RTR এর পার্টস পাওয়া যায় এবং অন্যান্য ব্রান্ডের পার্টসএর থেকে এর দাম তুলনামূলক অনেক সস্তা। আর এর পার্টসগুলোর গুনগত মানও অনেক ভালো, এজন্য নস্ট হয় কম। তাই মেইনটেনেন্স খরচ একেবারেই অল্প।
৯.গাড়ির সিম্পল আর্কিটেকচারঃ RTR এর কাজ পারে না এমন মেকানিক বোধহয় বাংলাদেশে খুজে পাওয়া যাবে না। আর এর কাজ করা এতোই সহজ যে, আপনি নিজেও এর অনেক ব্যাসিক মেইনটেনেন্স এর কাজ একা একাই করতে পারবেন। তাই দেশের যেই প্রান্তেই ট্যুরে যাননা ক্যানো পার্টস কিংবা মেকানিক কোনোটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না।
১০.হর্ণ এবং হেডলাইটের আলোঃ এই বাইকের স্টক হর্ণ এতোটাই লাউড যে যদি হেলমেট ছাড়া বাজাতে থাকি তাহলে মাঝে মাঝে আমারই বিরক্ত লাগে হর্ণ বাজাতে।এইরকম লাউড হর্ন ই দরকার আমাদের দেশের পরিস্থিতি কিংবা হাইওয়ে রাইডের জন্য।হেডলাইটের আলো রাতে রাইড করার জন্য পর্যাপ্ত। এরপরেও আমি স্টক হ্যালোজেন লাইট পরিবর্তন করে LED লাইট লাগিয়ে নিয়েছি।কেননা, হাইওয়ে রাইডে আসলে হ্যালোজেন লাইট আমার কাছে কম্ফোর্টাবল লাগে না।

 

মন্দ দিকঃ
১. ব্রেকিং এন্ড কন্ট্রোলিংঃ RTR এর ব্রেকিং আর কন্ট্রোলিং নিয়ে বরাবরই হাজারো মানুষের হাজরো অভিযোগ। কেউ কেউ তো এক পা বাড়িয়ে একে মরণগাড়ি বলে। আমি নিজে কিনার পরেও অনেক ভয়ে ডিপ্রেশনে ছিলাম আসলেই এটা মরণগাড়ি কিনা।বিক্রি করে দিবো কিনা।এমন ভয় পাইছিলাম মনে হইতে যে এই গাড়ি বোধহয় আমি ব্রেক করলেই পড়ে যাবো।গাড়ি দাঁড়াবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু চালাতে গিয়ে অভিজ্ঞতা কিছুটা বদলে গেলো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ব্রেকিং আর কন্ট্রোলিং এর কথা বলছি। গাড়ির কন্ট্রোলিং একটু কঠিন।হ্যান্ডেল বারে অনেক বেশী ওজন। এজন্য প্রথম দিকে হাতে ব্যাথা হয়ে যেতে পারে। তবে আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে যাবে।কিন্তু এরপরেও আমি বলবো, এর কন্ট্রোলিং একটু কঠিন যেটা আয়ত্ত হতে সময় লাগে। আর ব্রেকিং রেস্পন্স অসাধারণ। ব্রেকপ্যাড ডিস্ককে অনেক সুন্দর বাইট করে।ড্রাম ব্রেকও অনেক ভালোই কাজ করে।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এর Remora Brand এর Light weight Hard Compound এর টায়ারে। এটি Hard Compound On-road টায়ার বলে এর গ্রীপ একটু কম।এজন্য চাকা স্কিড করতে পারে।তবে ক্লাচ ছাড়া ইঞ্জিন ব্রেক সহকারে ব্রেক করলে পাকা রাস্তায় চাকা কখনো স্কিড করে না। কিন্তু মাটির রাস্তায় কিংবা কর্দমাক্ত রাস্তায় এই টায়ার আপনাকে ভালোই ভোগাবে। তাই এই টায়ার চাইলে পরিবর্তন করে MRF এর টায়ার লাগানো যেতে পারে।এবং সেটাতে ব্রেকিং ব্যালান্স কন্ট্রোলিং সবকিছু অসাধারণ উন্নতি করবে।তবে রেডি পিকাপ একটু কমে যাবে।
২. চেইন লুজ হয়ে যাওয়াঃ মেটালিক চেইন হবার কারণে ৫০০ কিলোর মধ্যেই চেইন লুজ হয়ে যায়। তাই ঘনঘন চেইন এডজাস্ট করতে হয়।
৩.ভাইব্রেশন বেশীঃ আমি হ্যাভোলিন 10w30 গ্রেডের ইঞ্জিন ওয়েল ব্যাবহার করি।এবং নিয়মিত বিরতিতে ইঞ্জিন ওয়েল পরিবর্তন সহ গাড়ির সমস্ত মেইনটেনেন্স ঠিকঠাক করি। এজন্য আমার গাড়িতে ভাইব্রেশন তুলনামুলক অনেক কম।কিন্তু এরপরেও এটা সত্যই এই ইঞ্জিনে কিছুটা হলেও ভাইব্রেশন আপনি পাবেন।সেটা মেনে নিয়েই আপনাকে চালাতে হবে। কারন এই ইঞ্জিনটা সেই ২০০০ সালের দিকে সুজুকি ফিয়েরো বাইকের ইঞ্জিন।সুজুকির ডেভেলপ করা সেই ইঞ্জিন টাই সামান্য মডিফিকেশন করে RTR এখনও চলছে।অনেক আগের ইঞ্জিন হওয়ায় এই ইঞ্জিনে ব্যালেন্সার নেই।এজন্য ভাইব্রেশন থাকবেই।এটা মেনে নিয়েই চালাতে হবে। তবে শুধু নিজের গাড়িই যদি সবসময় চালান তাহলে এই ভাইব্রেশন টা আপনার খারাপ লাগবে না।একসময় অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।কিন্তু যদি বন্ধুদের কারো খুব স্মুথ ইঞ্জিনের গাড়ি চালান(যেমন পালসার কিংবা জিক্সার) আর এরপর গিয়ে নিজের RTR চালানো শুরু করেন,তখন ভাইব্রেশন টা অনেক খারাপ লাগবে।এজন্য সাজেশন থাকবে যারা RTR চালান, তারা অন্য কোনো বন্ধুর খুব স্মুথ ইঞ্জিনের বাইক চালাবেন না। তাহলে RTR এর এই সামান্য ভাইব্রেশন আর খারাপ লাগবে না।
৪. হাইস্পিড স্টাবিলিটি কমঃ প্রিমিয়াম কমিউটার সেগমেন্ট এর বাইক হলেও RTR এর গতি অনেক বেশী।কিন্তু, সেই হিসেবে এর টপস্পিড স্টাবিলিটি কম। ১১৫/১১৬ এর পর গাড়ি এপাশ-ওপাশ দোল খেতে থাকে।যেটা রাইডিং এর কনফিডেন্স শুণ্যের কোঠায় নামিয়ে দেয়।আমার মতে RTR ১০০ স্পীডের নিচেই চালানো উচিত। কারণ এইস্পীড পর্যন্ত ব্যালান্স আর কন্ট্রোলিং ভালো থাকে। ১০০ ক্রস করলে ধীরে ধীরে গাড়ি কন্ট্রোলের বাইরে চলে যায়।
৫.পিছনের চিকন চাকাঃ যদিও এই প্রবলেমটি এখন সলভ হয়েছে।এখনকার নতুন RTR গুলোয় কোম্পানি থেকেই পিছনে ১২০ সাইজের চাকা দেয়া হয়েছে। যেটা বেটার রাইডিং এক্সপেরিয়েন্স দেয়।তবে আমার গাড়িতে ১১০ সাইজের চাকা।যেটা নিয়ে আমি কর্ণারিং এর সময় একটু ল্যাক অফ কনফিডেন্সে ভুগি। তাই আপনাদের যাদের ১১০ সাইজের চাকা তারা চাইলে বেটার রাইডিং এক্সপেরিয়েন্স এর জন্য পিছনে এক সাইজ বড় চাকা লাগিয়ে নিতে পারেন।আমি TVS সার্ভিস সেন্টার সহ বেশ কয়েক যায়গায় খোজ নিয়ছি, আগের ১১০ সাইজের চাকার রিমের মধ্যেই ১২০ সাইজের চাকা ইনস্টল করা যাবে।পারফরম্যান্স এর ব্যাপারে আমি Club RTR এর অনেক ভাইয়ের থেকে খোজ নিয়েছি। অনেকেই একসাইজ বড়ো চাকা লাগিয়েছেন। কেউই তেমন কোনো প্রবলেম ফেস করেন নি।বরং আরো বেশী ভালো পারফর্মেন্স পেয়েছেন তাই আমাকেও সাজেস্ট করেছেন।সামনে ইনশাআল্লাহ আমিও বেটার ব্রেকিং আর কন্ট্রোলিং এর জন্য MRF এর চাকা লাগাবো এবং পিছনে ১১০ এর যায়গায় ১২০ সাইজ লাগাবো।

 

টিভিএস এর সার্ভিস সেন্টারঃ বিভিন্ন বাইক কোম্পানিগুলোর অফিশিয়াল সার্ভিস সেটার সম্পর্কে আমার একটা অবজারভেশন আছে।সেটা হচ্ছে তাদের সব সার্ভিস সেন্টার গুলোর কাজের কোয়ালিটি আর আন্তরিকতা একই রকম হয়না।এই আন্তরিকতা আবার কাস্টমার টু কাস্টমার ভেরি করে। যেমন আমি আমার বাইকের সবগুলো ফ্রি সার্ভিস TVS Kurigram এর সার্ভিস সেন্টার থেকে করিয়েছি। প্রথম দিন যেদিন গিয়েছিলাম, সেদিন তাদের সুপারভাইজার এর ব্যবহারে মন খারাপ হয়ে গেছিলো। কিন্তু হেড মেকানিক যেই চাচা তার ব্যবহার অমায়িক ছিলো।অনেক যত্নের সাথে সবগুলো কাজ করলেন এবং এর মধ্যে আমার সাথে গল্পও করলেন। এরপর আস্তে আস্তে সুপারভাইজার এর সাথেও সম্পর্ক ভালো হয়ে যায়। তো দেখা গেলো এরপর আমি যখনই যাই না কেন হেড মেকানিক চাচা সব কাজ ফেলে রেখে হলেও আমার কথা শুনে।আর সুপারভাইজার ভাইও আন্তরিক ভাবে আমার বাইকের সব খোঁজখবর নেয়। আমার কাছে তাদের কাজ আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভালোই লেগেছে।তবে একই যায়গায় তাদের কয়েকজন মেকানিক কাজ করেন এবং তাদের সবার দক্ষতা আমার কাছে সমান মনে হয়নি। তবে হেড মেকানিক চাচা বেশ দক্ষতা এবং আন্তরিকতা নিয়েই সবার গাড়ির কাজ করে।

 

এই যে আমি যেমন সার্ভিস সেন্টার নিয়ে সন্তুষ্ট, আমার এক স্কুল ফ্রেন্ড সে আবার এই একই সার্ভিস সেন্টারের উপর একদম নাখোশ। সেও RTR চালায়।একই সাথে কিনেছি আমরা। ওর মতে চাচা নাকি কোনো কাজই পারে না।অথচ আমি সবসময়ই আমার বাইকের অনেক ভালো সার্ভিস পেয়েছি চাচার থেকেই। তো কনক্লুশন হচ্ছে,সার্ভিস সেন্টারের উপর আমি সন্তুষ্ট। তবে দোকান ভেদে এবং মানুষ ভেদে এই সন্তুষ্টির পার্থক্য আছে।

 

শেষকথাঃ RTR তাহলে কেমন গাড়ি? আমি কি এটা সাজেস্ট করবো অন্য কাউকে কিনার জন্য? উত্তর হচ্ছে হ্যা। আলহামদুলিল্লাহ আমি আমার গাড়ি নিয়ে চুড়ান্ত রকমের সন্তুষ্ট। অন্য কোনো গাড়িতে শিফট করার ইচ্ছা আমার এখোনো জাগে নি।ইভেন আমি যখন আমার বাইকিং ক্লাবের বন্ধুদের বিভিন্ন বাইক নিয়ে চালাই কোনো গাড়িই আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারে না।আমি আমার RTR কেই মিস করি। তবে হ্যা, RTR 4V এর কথা আলাদা।এইটা আমার ক্রাশ।নেক্সটে 4V নেয়ার পরিকল্পনা আছে। তবে হ্যা,একদম নতুন রাইডার।যাদের দক্ষতার একটু ঘাটতি আছে তাদের জন্য RTR না নেয়াই ভালো হবে।যেহেতু এই বাইকের মাত্রাতিরিক্ত গতি আছে, কিন্তু কন্ট্রোলিং একটু কঠিন। তাই যদি নতুন রাইডার ভাইয়েরা RTR নেনও, কমপক্ষে এক মাস গাড়ির সাথে ভালো করে অভ্যস্ত হয়ে এরপর RTR এর পাওয়ার কাজে লাগিয়ে উচ্চ গতি তুলার চেস্টা করবেন।এর আগে না। আর যারা মুরুব্বি মানুষ একটু বেশী বয়স্ক তাদেরকে ডিসকারেজ করবো এই বাইক নিতে। কারণ এই বাইকের টার্গেট পপুলেশন হলো ইয়ং জেনারেশন। তাই একদম খুব ধীরে,ভদ্রভাবে, একদম অল্পগতিতে যারা বাইক চালাতে চান তারা RTR নিয়েন না।বিরক্ত হবেন।কারণ হ্যান্ডেল বারে অনেক ওজন আর ভাইব্রেশনের কারণে খারাপ লাগবে। আর যারা রেডি পিকাপের ফ্যান,অনেক হার্ডকোর চালাতে চান, লং ট্যুর করতে চান, হাইওয়ে তে চালান এবং একটা দীর্ঘস্থায়ী লো মেইনটেনেন্স এর বাইক চান তাদের জন্য Apache RTR 2V একদম পারফেক্ট গাড়ি।
যারা ভবিষ্যতে এই বাইকটি কিনবেন বলে ভাবছেন আশা করি তাদের জন্য রিভিউওটি কাজে আসবে, ধন্যবাদ।
লিখেছেন – সৈয়দ ইশতিয়াক রিফাত
মন্তব্য

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
×