Suzuki Bangladesh
Yamaha Fazer ১২,০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন- নির্জন) - দেশি বাইকার

Yamaha Fazer ১২,০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন- নির্জন)

Tourino Tyres

বাইক রিভিউ আসসালামু আলাইকুম,

আমি মোঃ নাছিমুল আক্তার নির্জন। আমার ঠিকানা হারাগাছ, রংপুর, আমি এখন Yamaha Fazer V2 বাইক টি ব্যবহার করতেছি,আমি আপনাদের সাথে আমার সব চাইতে পছন্দের বাইকের সম্পর্কে কিছু কথা তুলে ধরবো। বর্তমানে আমি ১২০০০+ কিলোমিটার চালাইছি। কি রকম অনুভূতি হয়েছে তা প্রকাশ করব এখন। বাইক চালানোর শিক্ষা নিয়েছিলাম বাবা কাছ থেকে, যখন বাইক চালানো শিখেছি তখন আমি ক্লাস ফোর এ পড়ি, হঠাৎ এক দিন বাবা বলতেছে যে আজ তোমাকে বাইক চালানো শিখাবো, আমি তো এই কথা শুনে অবাক, পরে বাবা আমাকে সব কিছু বুঝায় দিলো। গাড়িতে চাবি দিয়ে অন করলাম, স্টার্ট দিলাম গিয়ার দিবো তখনই স্টার্ট বন্ধ হয়ে গেলো, বাবা আবার ভালো করে বুঝায় দিলো যে, গিয়ার দিয়ে ধিরে ধিরে ক্লাচ ছেড়ে দিবে আর পিকআপ বাড়াবে, এভাবে বাইক চালানো শুরু হয়ে গেলো,।

তখন আমার বাবার বাইক টা ছিলো Discover 135সিসি, তার পর প্রতিদিন বাইক চালাই। প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত বাইকে থেকে একদিন ও পরে যাই নাই, তখন থেকে ইচ্ছা ছিলো যে একটা বাইক কিনবো, SSC পরিক্ষা দিয়ে বাসায় মা কে বললাম যে বাবা কে বলে আমাকে একটি বাইক কিনে দেও, মা বাবাকে কথা টা জানালো যে, ছেলে বাইক কিনে চায়।বাবা রাজি হলো না, মা পরের দিন বিকেলে আমাকে জানালো তোমার বাবা বাইক কিনে দিবে না।শুনে খুব কষ্ট পেলাম, আমিও জেদ ধরে বসলাম যে বাইক কিনে নিবো।

পরে বাবাকে নানা কষ্টে রাজি করালো মা, কলেজে ভর্তির কিছু দিন পর বাবা বললো যে কি বাইক কিনতে চাও, তখন আমার ভালো লাগার বাইকে নাম বললাম যে, Yamaha Fazer V2 কিনতে চাই।বাবা বললো ঠিক আছে এই বাইকে কিনে দিবো। বাবাকে পছন্দের বাইকের নাম বলার ১০/১৫ দিন আগে এই বাইক সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই। বাইকটি পছন্দ করার কার ছিলোঃ অসাধারণ লুক মাইলেজ ভালো কোয়ালিটি পরের দিন বাবা আমাকে নিয়ে বাইক কিনতে গেলো রংপুর শহরে, রংপুরের জিয়া মটরস্ থেকে বাইকটি কিনেছিলাম। বাইকটি ২৬৮,০০০ হাজার টাকা দিয়ে। বাইকের চাবি হাতে তুলে দেয়ার আগে বাবা আমার কাছে কথা নিয়েছিলো যে আমি যেন বাইকে টপ স্পিড না তুলি,আমি বাবা কে সবার সামনে কথা দিয়েছিলাম যে বেপরোয়া হয়ে গাড়ি চালাবো না, আলহামদুলিল্লাহ্‌ বাবার মাধ্যমে আর আমার ইচ্ছে পূরন হলো।

বাইকে চালিয়ে যখন বাসা আসি সেই অনূভুতি কি ছিলো তা বুঝাতে পারবো না। বাসা এসে বাইক থেকে নেমে মাকে জরিয়ে ধরি আর বলি যে তুমি যদি বাবা কে রাজি না করাতে তাহলে আমার স্বপ্ন পূর্ণ হতো না,মা আমাকে বলে তুমি আজকে খুশি তো? আমি বলি আজকে আমি অনেক খুশিতে আছি,মা আরও একটি কথা বলেছিল মন দিয়ে পড়াশোনা করবা আর সাবধানে বাইক চালাবে।বাইকের মাইলেজ পেয়েছি ৪০/৪১ প্রতি লিটারে এখনো ওরকম পাইতেছি। Fi টেকনোলজিস, ব্লু কোর ইঞ্জিন, এয়ার কুলিং সিস্টেম, ১৪৯ সিসি, সব মিলে আমার কাছে অনেক ভালো শোরুম থেকে চারটি ফ্রি সার্ভিসিং পেয়েছিলাম তারা প্রতিবার আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে বাইকে সার্ভিসিং করে দিছে। আমার বাইকে এখনো বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয় নাই। আমি বাইকের ভালো যত্ন নেই। কোন সমস্যা হলে আমি পড়াশোনা তে ব্যস্ত থাকলে বাবা বাইকটি সার্ভিসিং করতে নিয়ে যায়। আমি ১০০০ বা ১১০০ কিলোমিটার মধ্যে ইঞ্জিল অয়েল পরিবর্তন করি।

বাইক কেনা থেকে শুরু করে এখনো ইমালুব 10w40 ব্যবহার করি দাম নেয় ৪৯৫ টাকা। কিন্তু ২০/২৫ দিন থেকে বাইকের ইঞ্জিন খুব গরম হচ্ছে, বাইকের শব্দ টাও মোটামুটি খারাপ হয়েছে ১/২ মাস আগে #Abu_Nasim_Shakil ভাই Shell Advance Ultra 4t 10W-40, ব্যবহার করতে বলেছিল, বাইকের এই পরিবর্তন গুলো খেয়াল করে,#Abu_Nasim_Shakil ভাই এর কথা মনে পরলো, আর কিনে নিলাম Shell Advance Ultra 4t 10W-40। বাইকে ব্যবহার করে কিছু দিন পর বুঝতে পারলাম যে এখন কম গরম হয় ইঞ্জিন, দেখি আর কিছু দিন পর আর ও ভালো করে বুঝতে পারবো বেশ কয়েক বার অয়েল ফিল্টার পরিবর্তন করেছি , আর হাইড্রোলিক ব্রেক পরিবর্তন করেছি এক বার। বাইকের লুক অসাধারণ হওয়ায় এখনো মডিফাই করি নাই টপ স্পিড সম্পর্কে আর কি বলি ওই যে বাইক কিনার সময় বাবাকে কথা দিছলাম যে বেপরোয়া ভাবে বাইক চালাবো না, তাও ৭৫/৮০ তুলেছিলাম এক দিন।বাইকটি কিছু ভালো দিকঃ

১.মাইলেজ। ২.কোয়ালিটি। ৩.সারাদিন বাইক চালালেও ক্লান্ত লাগে না। ৪.অসাধারণ লুক। ৫.পিলিওন সিট।

বাইকের কিছু খারাপ দিকঃ ১.হেড লাইটের আলো কম যা হাইওয়ের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ২.পিছনে হাইড্রোলিক ব্রেক নেই। ৩.রেডি পিকাপ কম হওয়ায় হাইওয়ে তে বড় গাড়িকে ওভারটেক করতে সমস্যা হয় অনেক বেশি। ৪.লং ট্যুরে গেলে বাইকটির সাউন্ড এর সমস্যা হয় সাময়িক ভাবে। ৫. এই বাইকের ইঞ্জিন খুব গরম হয়।

বাইকটি নিয়ে সব শেষ মন্তব্য হলো বাইকটি সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে অনেক দিন টিকবে। এখন পর্যন্ত বাইকটি আমাকে হতাশ করেনি, বাইকটি আমার কলিজার ভিতরে জায়গা করে নিয়েছে, এ পর্যন্ত লং ট্যুর যায়নি সর্বোচ্চ তিস্তা ব্যারেজ ও বগুড়া গিয়েছিলাম ।বাইকটি লং ট্যূর এর জন্য ব্যবহার করতে পারেন যারা রেডি পিকআপ বেশি চান তাদের জন্য এই বাইক নয় এখানে শেষ করলাম। ভূল ত্রুটি হলে ক্ষমা করেন আল্লাহ হাফেজ।

লিখেছেন- মোঃ নাছিমুল আক্তার নির্জন

মন্তব্য
Shell Advance

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
×