ভারত থেকে মোটরসাইকেল আমদানি বেড়েছে ৫০ শতাংশ

Tourino Tyres

বিশ্বব্যাপী ভারতীয় মোটরসাইকেল সবচেয়ে বড় বাজার হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (ভারতে অর্থবছর ধরা হয় এপ্রিল-মার্চ সময়সীমাকে) বাংলাদেশে মোট ২৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার (১ হাজার ৯০০ কোটি রুপি) মূল্যের টু-হুইলার রফতানি করেছে দেশটি, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। এর মধ্য   দিয়ে ভারতীয় টু-হুইলারের রফতানি গন্তব্য হিসেবে শ্রীলংকাকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড গতকাল এ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশে ভারত থেকে টু-হুইলার আমদানি হয়েছিল প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের। দুই বছরের মাথায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। বাংলাদেশে টু-হুইলার আমদানি বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ভারতের হিরো মটোকর্প ও বাজাজ অটো। বর্তমানে বাংলাদেশে টু-হুইলারের বাজারের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। এর মধ্যে বাজাজ অটোই বর্তমানে মার্কেট লিডার বা বাজারে শীর্ষস্থানে রয়েছে। যদিও কোম্পানিটির এ অবস্থানকে এখন চ্যালেঞ্জ করছে হিরো, টিভিএসসহ অন্যান্য ব্র্যান্ড।

গত বছর ১০০ শতাংশ বিক্রয় প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশে মার্কেট শেয়ার এক-চতুর্থাংশে উন্নীত করেছে ভারতীয় টু-হুইলার ব্র্যান্ড টিভিএস, যেখানে দেশে মোটরসাইকেলের বাজার বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। স্থানীয় ম্যানুফ্যাকচারিংয়েরও প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। টিভিএস অটো বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার রায় বণিক বার্তাকে জানান, জনসংখ্যার বিপরীতে মোটরসাইকেল বা স্কুটারের ব্যবহার হিসাব করলে বাংলাদেশ এ অঞ্চলে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তবে এখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দ্রুত বাড়ছে। দুইয়ে মিলিয়ে সহজেই বলা যায়, এখানে টু-হুইলারের বাজার সম্ভাবনা অনেক বেশি। স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজন বাড়ানোয় সুবিধাজনক এ বাহনটির দাম কমছে। মানুষও মোটরসাইকেল কিনছেন। স্থানীয় ম্যানুফ্যাকচারিং যত বাড়বে, দামও তত কমে আসবে। সরকার একটি মধ্যমেয়াদি কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণা করার পর ভারতের শীর্ষ কোম্পানিগুলো এখানে ম্যানুফ্যাকচারিং শুরু করছে। তবে মোটরসাইকেল শিল্পে সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল নীতিমালা দরকার, যার আওতায় কোম্পানিগুলো সুচিন্তিত বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ হবে।

ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছর দেশটি থেকে টু-হুইলারের ক্রেতা দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই মোটরসাইকেল রফতানি প্রবৃদ্ধির হার দুই অংকের ঘরে ছিল। এ সময় ভারতীয় টু-হুইলারের দ্বিতীয় শীর্ষ আমদানিকারক দেশ শ্রীলংকায় মূল্যের দিক থেকে মোটরসাইকেল রফতানিতে কিছুটা ভাটা দেখা যায়। আগের অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ৩ শতাংশ কমে এ সময় দেশটিতে রফতানি হওয়া ভারতীয় মোটরসাইকেলের মোট মূল্য দাঁড়ায় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অন্যদিকে তৃতীয় শীর্ষ গন্তব্য নেপালে এ সময় পণ্যটি রফতানি হয়েছে ১৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের। গত অর্থবছরে বিশ্বের ১৪৫টি দেশে মোট ২০০ কোটি ডলারের টু-হুইলার রফতানি করেছে ভারত। এর মধ্যে বাংলাদেশে এসেছে ১৪ শতাংশ।

বাংলাদেশে বাজার সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এখানকার নিলয় মোটরস লিমিটেডের সঙ্গে এক যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ভারতের শীর্ষ টু-হুইলার নির্মাতা হিরো মটোকর্প, যার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেড (এইচএনবিএল)। এরই মধ্যে যশোরে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা দেড় লাখ ইউনিট। উৎপাদন ইউনিটটিতে হিরোর মালিকানার হার ৫৫ শতাংশ। হিরোর এক বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এইচএনবিএলের অসমন্বিত রাজস্ব আয় ছিল ৫৪১ কোটি রুপির (প্রায় ৬৬৩ কোটি টাকা) সমপরিমাণ অর্থ। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মোট মুনাফা হয়েছে ৭৭ কোটি রুপির (প্রায় ৯৪ কোটি টাকা) সমপরিমাণ অর্থ।

শুধু টু-হুইলার নয়, ভারতে উৎপাদিত ট্রাকেরও এখন শীর্ষ রফতানি গন্তব্য হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (এপ্রিল-মার্চ) ভারত থেকে মোট ২৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের ট্রাক আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এছাড়া ভারতে নির্মিত যাত্রীবাহী মোটরযানের ক্ষেত্রেও শীর্ষ ২০ গন্তব্যের অন্যতম বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বাংলাদেশে নিটল মোটরসের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগের ভিত্তিতে একটি অ্যাসেম্বলি ইউনিট স্থাপন করেছে টাটা মোটরস। স্থানীয় অংশীদার ইফাদ অটোজের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশে অ্যাসেম্বলি ইউনিট স্থাপন করেছে ভারতের আরেক মোটর ভেহিকল জায়ান্ট অশোক লেল্যান্ডও।

উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে (এপ্রিল-মার্চ) বাংলাদেশে মোট ৮৪৬ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে ভারত। এর মধ্যে টু-হুইলার, ট্রাক, প্যাসেঞ্জার ভেহিকল ও বাস রফতানির মাধ্যমে দেশটি আয় করেছে প্রায় ৬০ কোটি ডলার।

 

সংগৃহীতঃ বণিকবার্তা

মন্তব্য

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!