TVS Auto Bangladesh
Suzuki Gixxer ৫০,০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন- আরিফ) - দেশি বাইকার

Suzuki Gixxer ৫০,০০০ কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন- আরিফ)

Suzuki Gixxer 155cc মালিকানা রিভিউ, আমার নাম আরিফ,  আমার বয়স ৩১ বছর।

বাসা নরসিংদী জেলা, রায়পুরা থানা, ভিটি মরজাল। আমার জীবনের প্রথম বাইকটি ছিল Hero Honda Spelender Plus 100cc ২০১৩ সালে। তাঁর পড়ে Bajaj Pulsar 150cc ২০১৬ সালে, বর্তমানে Suzuki Gixxer 155cc বাইকটি ব্যবহার করছি। আজ আমার এই বাইকটির ব্যপারে আপনাদের সাথে বিশেষ অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো।

বাইক চালানো শিখেছি আমার বন্ধু জাকিরের হাত ধরে। তখন Dayang 80cc বাইক দিয়ে জাকির ভাইয়ের হাত ধরে আমি বাইক চালানো শিখি। ভালোভাবে বাইক চালানো শিখতে সময় লাগে ১৫ দিনের মত। কিছু দিন পরে হঠাৎ করে আমার বাবা Hero Honda 100cc মোটরবাইক ক্রয় করে। আর তখন আমার বাবা বাইক চালানো শিখে নাই। তখন আমার খুব আনন্দ লাগে। একটানা তিন বছর বাইক চালিয়ে পরে উক্ত বাইকটি বিক্রি করে দেই।

তার এক সপ্তাহের মধ্যে পুরাতন একটি Bajaj Pulsar 150cc বাইক রেজিস্টশন সহ দুই লক্ষ তের হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। বাইকটি আমাদের থানা এলাকার এক বড় ভাইয়ের ছিলো, তাঁর কাছ থেকে কিনেছিলাম। ঐ ভাই ৪ মাসের মত বাইকটি ব্যবহার করেছিলো। তার পরে আমি এক বছরের মত বাইকটি চালাই। এবং তা আবার বিক্রি করে দেই। তার পরে Suzuki Gixxer 155cc বাইকটি ক্রয় করি নরসিংদী, আমার বড় ভাইয়ের শোরুম থেকে নতুন ২,৪২,০০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন সহ M H মোটর্স সুজুকি শোরুম থেকে, তখন ৬০০০ হাজার টাকা ছাড় দিয়েছিল আমাকে। সুজুকি শোরুম মালিক সিজার ভাই সে একজন ভালো মনের মানুষ। আমি যখন ফোন দিলাম বাইক নেওয়ার জন্য, বললাম আমার জন্য বাইক নিবো। তখন বললেন চলে আসো। আমি বললাম ভাই দুই দিন পরে আসবো। তখন বললেন কেন দুদিন পরে আসবা? আমি বললাম কিছু টাকার কমতি আছে। তিনি আমাকে বললেন কোন সমস্যা নাই,পরে দিলে হবে। তখন আমি চলে গেলাম তার শোরুমে, তখন খুব আনন্দ পাই নতুন গাড়ি কিনব। দ্রুত চলে গেলাম তাঁর শোরুম নরসিংদীতে।

বাইকটি ভালোলাগার প্রথম কারন জাপানি প্রযুক্তি। বাইকটি বেশী দিন হয়নি বাজারে আসছে তখন। বিষয়টি খুব ভালো লাগে আমার। আমি একটা ব্যবসা করি, সবদিক বিবেচনা করে আমার বন্ধু নজরুল ভাইয়ের সাথে কথা বলার পর, বললো বাইকটি খুব ভালো হবে মনে হয়। এই চিন্তা করে দুজন সুজুকি শোরুমে চলে গেলাম।

১) প্রধানত কারণ বাইক দিয়ে দেশের সকল সুন্দর্য খুব কাছাকাছি থেকে উপভোগ করা যায়। এবং যেখানে সেখানে যাতায়াত করা যায়। তাই বাইক রাইডিং আমি অনেক ভালবাসি।

২) বর্তমানে আমি Suzuki Gixxer 155cc বাইকটি ব্যবহার করছি। সুজুকি জিক্সার বাইকটি যখন বাংলাদেশের বাজারে প্রথম দেখলাম। তখন আমি তার ভক্ত হয়ে গেলাম।

৩) সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটির কালার, লুক, ডিজাইন, এবং পার্ফমেন্স দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই।

৪)  আমার সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটির দাম ২,৪২,০০০/- হাজার টাকা রেজিষ্টেশন সহ। নরসিংদীর এম,এইচ মোটর্স থেকে নেওয়া হয়।

৫) সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটি আমি যেদিন কিনতে গিয়েছিলাম। সেদিন কি যে, আনন্দ লাগছিল আমার। তা আমি কাউকে বলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবনা।

৬) সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটি প্রথম এক বড় ভাইয়ের থেকে নিয়ে পাঁচ মিনিট চালিয়ে ছিলাম। আমি আরও অন্য যে, বাইক চালিয়েছি তার থেকে অনেক গুণ ভাল লেগেছিল। তাই কেনার জন্য আমি অনেক আগ্রহ সহকারে শোরুমে গিয়েছিলাম।

৭) আসলে সত্যি বলতে ছোট বেলা থেকেই বাইকের প্রতি অগাধ ভালো লাগা কাজ করত তাই মূলত বাইক চালাই। আর আমি যে, ব্যবসা করি তা বাইক ছাড়া চলেই না।

৮) এক কথায় সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটি নজর কারা বাইক।

৯) প্রতিদিন আমি যখন সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটি রাইড করি, আমার কাছে মনে মনে হয়, এই সেগমেন্টের সেরা একটি বাইক চালাচ্ছি।

১০) আমার সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটি প্রথম বার, সুজুকি সার্ভিস সেন্টার থেকেই সার্ভিস করিয়েছিলাম।

১১) আমার সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটি ২,৫০০ কিলোমিটার এর আগে মাইলেজ পেতাম ৩৮ থেকে ৪০ কিলোমিটারের মত প্রতি লিটারে মাইলেজ পেতাম। ২,৫০০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর, প্রতি লিটারে ৪৩ থেকে ৪৫ কিলোমিটার প্রতি লিটারে মাইলেজ পাচ্ছি।

১২) আমার সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটি আমার শরীর থেকেও বেশি যত্ন করি। প্রতি দিন সকালে ভালো ভাবে মুছামুছি + পরিস্কার করে তার পর বাইক রাইডিং করি।

১৩) আমার সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকে প্রথমে Suzuki Oil গ্রেড 20w40 শোরুম থেকে চেঞ্জ করি। তার পর Shell Oil 20w40 বাহিরের দোকান থেকে কিনে ইউজ করতাম। তার পর অন্য ব্রান্ডের ইঞ্জিন অয়েল কিছু দিন ইউজ করেছি। এর পর Total Oil 20w50 গ্রেড ব্যবহার করেছি এবং আমার বাইকে অয়েল ৯০০ মিলি গ্রাম দিয়ে থাকি দাম ৩২০ টাকা। দীর্ঘ সময় ব্যবহার করে থাকি। তার পর থেকে মনে হচ্ছে বাইকের সাউন্ড অন্য রকম হয়ে যাচ্ছে। তার পর তাকে বাদ দিয়ে, এখন আমি Mutul 20W40 ব্যবহার করতেছি দাম ৪৫০ টাকা। তবে বাইকের সাউন্ড এখন আগের থেকে পরিবর্তন হচ্ছে বলে মনে হয়।

১৪) চেইনসেট চেঞ্জ করি। সামনের চাকার হাইড্রোলিক ব্রেকশো দুই সেট চেঞ্জ করি। সামনের সাসপেনশন এর অয়েল সিল দ্বিতীয় বার চেঞ্জ করি । বল রেসার চেঞ্জ করি। পেছনের চাকার ড্রাম রাবার দ্বিতীয় বার চেঞ্জ করি। এয়ার ফিল্টার পাঁচ বার চেঞ্জ করি। আর অয়েল ফিল্টার প্রতি পাঁচ হাজার কিলোমিটার পরপর চেঞ্জ করি। মিটার ক্যাবল চেঞ্জ করি। দ্বিতীয় বার সামনের চেন্স পোকেট চেঞ্জ করি।

১৫) আমার সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটিতে ইয়ামাহা ফেজার ভার্সন ১ এর উইনসিট ইন্সটল করি। পেছনের চাকার মাডগার্ড ইন্সটল করি। এলইডি হেড লাইট এবং এল ই ডি ফগ লাইট দুই সেট প্যাসিফিক ৭এস ইন্সটল করি।

১৬) সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটি আমি ১১৮ পর্যন্ত গতি তুলতে পেরেছি। এর এক্সিলারেশনে গতি আরও আছে মনে হচ্ছে।

১৭) প্রথমে বাইকটির ৫টি খারাপ দিকের কথা বলিঃ

  • বাইকের সাসপেনশন খুবই হার্ড।
  • বাইকটির পিলিয়ন সিট খুবই খারাপ।
  • বাইকের হেড লাইটের আলো খুবই কম।
  • বাইকটির ব্রেকিং আরো ভালো দরকার ছিল। বাইকটির বডি কিট কিছু দূর্বল মনে হয়।

১৮)এবার বাইকটির ৫টি ভালো দিকের কথা বলি:

  •  বাইকের লুক অসাধারণ।
  •  বাইকের বডি কালার, ডিজাইন অনেক ভালো।
  •  বাইকটি এক্সিলারেশন অনেক ভাল।
  •  বাইকের কন্ট্রোলিং অনেক অনেক ভালো।
  •  বাইকের মাইলেজে আমি সন্তুষ্ট।

১৯) সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটি দিয়ে সিলেট মাজার জিয়ারত করি তিনবার, বিছানা কান্দি, সাদা পাথর, শ্রীমঙ্গল, সুনামগঞ্জ তাহিরপুর, জাফলং একবার, এবং নিলার্দী লেক,  কক্সবাজার, তারপর রাজশাহী রাজবাড়ি দুইবার, কুষ্টিয়া, লালনশাহ সেতু, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ,  মিঠামইন, অস্টগ্রাম, ইটনা, নিকলি, টাঙ্গাইল ২০১ গম্বুজ মসজিদ। ‌ আমার বড় ট্যুর হলো  পঞ্চগড় জেলার “””তেতুলিয়া”””  জিরো পয়েন্ট, সহ আরো অনেক নাম না জানা জায়গায় ভ্রমণ করি।র

আরও একটি ব্যপার হলো এই ৫০,০০০ হাজার কিলোমিটার রাইডের মধ্যে মাত্র একবার ফুল সার্ভিস করি। তাও আবার আমার এলাকার দক্ষ একজন হোন্ডা মেকানিক মোঃ আল আমিন এর কাছ থেকে। তার একটি ভালো দিক হলো সে বাইকের ওয়ারিং খুব ভালো পারে। ঠিকানা বারৈচা বাজার,বেলাবো, নরসিংদী।  ঢাকা সিলেট হাইওয়ে রোড, পেট্রোল পাম্প এর বিপরীত পাশে।

সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটির ব্যপারে আমার অলমোস্ট কোন অভিযোগ নেই। বাইকটির পারফরম্যান্সে আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এই ছিল সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকের ০৪ বছর ০৫ মাস ১৩ দিনে ৫০,০০০ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার অভিজ্ঞতা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম।
ধন্যবাদ।

 

লিখেছেন- আরিফ

মন্তব্য

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
×