TVS Auto Bangladesh
TVS Stryker 125 ৬৫০০কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন - ফাহিম মুজতাহিদ) - দেশি বাইকার

TVS Stryker 125 ৬৫০০কিঃমিঃ মালিকানা রিভিউ (লিখেছেন – ফাহিম মুজতাহিদ)

আমি ফাহিম মুজতাহিদ, আমার প্রথম বাইক এই TVS Stryker 125. বাজারে ১০০-১২৫ সিসি বাইকের চাহিদা অনেক বেশি এবং আমাদের দেশে এই সেগমেন্টে বাইকের অনেক অপশন। আমি এখন পর্যন্ত আমার বাইকটি প্রায় ৬৫০০ কিঃমিঃ চালিয়েছি। আজকে আমি আমার এই ৬৫০০ কিঃমিঃ রাইডের এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করবো আপনাদের সাথে।

প্রথমেই আসি বাজারে এতো বাইক থাকতে কেন এই বাইক নিলাম? আসলে প্রথম থেকেই এই বাইকটা আমার পছন্দ ছিলো। আর মূল কারণ এর লুকস, বাজারে আর সব ১২৫ সিসির বাইকের তুলনায় এই বাইকের লুক আমার অনেক বেশি ভাল লেগেছে অনেকটা বলতে পারেন Apache RTR এর ছোট ভাই। আর ১২৫ সিসি বাইকে কিছুটা স্পোর্টস লুক দিয়েছে তারা, মুলত এই কারনেই বাইকটি নেয়া।

এবারে বলবো সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস মাইলেজ, কেননা আমরা এই কম সিসির বাইক গুলোতে একটু মাইলেজ আশা করি। আমি এখন পর্যন্ত আমার এই বাইকে শহরে ৪৮-৫০ এবং হাইওয়েতে প্রায় ৫২-৫৪ কিঃমিঃ মাইলেজ পাই লিটারে। যা আমার কাছে মনে হয় যথেষ্ট।

যেহেতু এগুলো কমিউটার সেগমেন্টের বাইক সেহেতু স্পিডিং নিয়ে খুব একটা মাথা ব্যাথা নেই আর আমি এমনি ঠান্ডা মাথার রাইডার। তবুও বাইক থাকলে মাঝে মাঝে একটু টপ স্পিড চেক করতে ইচ্ছে করে, আমি এই বাইক এ সর্বোচ্চ ১০২ কিঃমিঃ পর্যন্ত টপ স্পিড তুলেছি। এর পরে আর ট্রাই করা হয়নি।

এবার আসি অন্যতম পয়েন্ট কম্ফোর্ট, এই বাইক গুলো সাধারণত আমরা রেগুলার ডেইলি লাইফ ব্যবহারের জন্য নিয়ে থাকি। এর কম্ফোর্ট যথেষ্ট ভাল শহরে কিংবা হাইওয়েতে রেগুলার ৫০০-১০০ কিঃমিঃ দিনে চালালে কোনো প্রকার সমস্যা হয় না। আমি এটা নিয়ে প্রায়ই লং ট্যুর দিয়ে থাকি তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ব্যাথা অনুভব করি নি। আশা করি কম্ফোর্ট নিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট থাকবেন না এই বাইকে।

এই ১২৫ সিসি বাইকের এক্সিলারেশন কেমন? আমি এটাকে Apache RTR এর ছোট ভাই বলি কেননা এর এক্সিলারেশন আসলেই অনেক ভাল, কোনো কিছু ওভারটেকের সময় বেশ ভাল সাপোর্ট দেয়, এমনকি আমি YAMAHA FZS V2 চালিয়েছি ওইটার চেয়ে আমার এই ১২৫ সিসি বাইকের এক্সিলারেশন অনেক ভাল মনে হয়েছে।

এর সিটি রাইড এক্সপেরিয়েন্স, আমি বেশি ভাগ সময় সিটিতেই রাইড করে থাকি, চাকরীর সুবাদে এদিকে সেদিকে যেতে হয় জ্যাম তো আছেই। কিন্তু এটি নিয়ে কখনো সিটি রাইডে প্যারা খাই নি, চিপা চাপা দিয়ে খুব সুন্দর ভাবে বের হয়ে যাওয়া যায়। এছাড়া এর টার্নিং রেডিয়াস ভাল তাই খুব অল্প জায়গার মধ্যে এটি ঘুরানো যায়।

আর একটি কথা পিলিয়ন কম্ফোর্ট নিয়ে, কেননা কমিউটার সেগমেন্টের বাইক পিলিয়ন নিতে হবেই, এই বাইক ফ্যামিলি নিয়ে চলার জন্য একদম পারফেক্ট রাইডার কিংবা পিলিয়ন দুজনের জন্যেই বেশ আরামদায়ক

প্রতিটা জিনিসের ভাল এবং খারাপ দিক আছে এই বাইকেরও কিছু খারাপ দিক আছেঃ এই বাইকে তেমন কোনো খারাপ দিক পাই নি শুধু মাত্র ৭০-৮০ স্পিডে চালালে একটা ভাল ভাইব্রেশন ফিল হয় এটা অবশ্য টিভিএস এর পুরানো রোগ। তবে পিলিয়ন সহ রাইড করলে এ ভাইব্রেশন কম ফিল হয়। এটা নিয়ে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না।

এই বাইকে ওভারল যদি ভাল লাগার কথা বলি মুলত এর লুকস একটা এগ্রেসিভ ভাব আছে আর এই বাইকে ইমার্জেন্সি হ্যাজার্ড লাইটের সুইচ আছে যা বেশ প্রয়োজনীয়। অনেকে আমরা বাইক কেনার পরে এই সিস্টেম করে নেই। ওভারল বাইকটি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।

সেলস আফটার সার্ভিস এর কথা বলতে গেলে তাদের যে ডিলারের কাছে আমি নিয়েছি তার ব্যবহার যথেষ্ট খারাপ এবং সার্ভিস গুলো আমি মন মতো পাই নি। আশা করি টিভিএস অটো বাংলাদেশ এই বিষয়টি খেয়াল রাখবে। পরিশেষে বলবো সবাই সাবধানে হেলমেট পড়ে বাইক রাইড করবেন।

 

লিখেছেন – ফাহিম মুজতাহিদ

 

মন্তব্য

About The Author

Related Posts

error: Content is protected !!
×