Suzuki Gixxer 155cc ইউজার রিভিউ লিখেছেন আরিফ।

বাইক চালানো শিখেছি আমার বন্ধু জাকিরের হাত ধরে, Dayang 80cc বাইক দিয়ে। সময় লেগেছিল ১৫ দিনের মত।জীবনের প্রথম বাইকটি ছিল Hero Honda স্পেন্ডেল প্লাস 100cc ২০১৩ সালে।তাঁরপড়ে  Bajaj Pulsar 150cc ২০১৬ সালে।বর্তমানে Suzuki Gixxer 155cc বাইকটি ব্যবহার করছি। বাইকটি আমি ৬০ হাজার কিলোমিটার ধরে ব্যবহার করছি। আজ আমার এই বাইকটির ব্যপারে আপনাদের সাথে বিশেষ অভিজ্ঞতা শেয়ার করব।

সুজুকি জিক্সার বাইকটি যখন বাংলাদেশের বাজারে প্রথম দেখলাম, তখন আমি তার ভক্ত হয়ে গেলাম। এর কালার, লুক, ডিজাইন, এবং পার্ফমেন্স দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। বাইকটি না নিয়ে থাকতে পারছিলাম না। বাইকটি  ভালোলাগার প্রথম কারন জাপানি প্রযোক্তি ও বাইকটি বেশী দিন হয়নি বাজারে আসছে তখন। সবদিক  বিবেচনা করে সুজুকি শোরুমে চলে গেলাম। বর্তমানে আমি Suzuki Gixxer 155cc বাইকটি ব্যবহার করছি। বাইকটি আমার শরীর থেকেও বেশি যত্ন করি। প্রতি দিন সকালে ভালো ভাবে মুছামুছি ও পরিস্কার করে তারপর বাইক রাইডিং করি।

 

সার্ভিসিং: আমার সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটি প্রথম বার, সুজুকি সার্ভিস সেন্টার থেকেই সার্ভিস করিয়েছিলাম। বাইকটি ২,৫০০ কিলোমিটার এর আগে মাইলেজ পেতাম ৩৮ থেকে ৪০ কিলোমিটারের মত প্রতি লিটারে। ২,৫০০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর, প্রতি লিটারে ৪৩ থেকে ৪৫ কিলোমিটার প্রতি লিটারে মাইলেজ পাই এখন পর্যন্ত। প্রথম দিকে মিনারেল ব্যবহার করলেও পরে আমি Shell advance ultra 20W40 ব্যবহার করতেছি। বাইকের সাউন্ড এখনো অনেক ভালো। এখন পর্যন্ত বাইকের বেশ কিছু পার্টস পরিবর্তন করি। যেমন: চেইনসেট চেঞ্জ করি দুইবার, সামনের চাকার হাইড্রোলিক ব্রেকশো সেট চেঞ্জ করি তিনবার, সামনের সাসপেনশন এর অয়েল সিল চেঞ্জ করি দুইবার, বল রেচার চেঞ্জ করি দুইবার, পেছনের চাকার ড্রাম রাবার চেঞ্জ করি তিনবার, এয়ার ফিল্টার আটবার চেঞ্জ করি, গাড়ির স্টক টায়ার চেঞ্জ করি একবার, আর মবিল ফিল্টার প্রতি পাঁচ হাজার কিলোমিটার পরপর চেঞ্জ করি, মিটার ক্যাবল চেঞ্জ করি একবার, চতুর্থবার  সামনের চেন্স পোকেট চেঞ্জ করি, মাইল মিটার চেঞ্জ করি, কার্বোটার চেঞ্জ করি, একটি প্লাগ চেঞ্জ করি, সামনে হাইড্রোল ব্রেক সুইচ চেঞ্জ করি দুইবার। এছাড়াও বাইকটিতে ইয়ামাহা ফেজার ভার্সন ১ এর উইনসিট ইন্সটল করি। পেছনের চাকার মাডগাট ইন্সটল করি। এলইডি হেড লাইট  এবং এল ই ডি ফগ লাইট চার সেট প্যাসিফিক ৭এস ইন্সটল করি।

 

বাইকটির ৫টি খারাপ দিক:

১। বাইকের সাসপেনশন খুবই হার্ড।

২। বাইকটির পিলিয়ন সিট খুবই শক্ত ও আনকম্ফর্টেবোল।

৩। বাইকের হেড লাইটের আলো খুবই কম।

৪। বাইকটির সিটিং পজিশন আরেকটু ভালো হতে পারত।

৫। বাইকটির পার্টস এর দাম তুলনামূলক বেশি।

বাইকটির ৫টি ভালো দিক:

১। বাইকের লুক অসাধারণ।

২। বাইকের সেপ বেশ এরদাইনামিক।

৩। বাইকটি ইনস্ট্যান্ট থ্রোটোল অনেক ভালো।

৪। বাইকের কন্ট্রোলিং অনেক ভালো।

৫। বাইকের মাইলেজে আমি সন্তুষ্ট।

এবার আসি বাইকটি দিয়ে কোথায় কোথায় ভ্রমণ করছি। 

সুজুকি জিক্সার ১৫৫ সিসি বাইকটি দিয়ে সিলেট, বিছানা কান্দি, সাদা পাথর, শ্রীমঙ্গল, সুনামগঞ্জ তাহিরপুর, জাফলং , নিলার্দী লেক, কক্সবাজার, ইনানী, রাজশাহী রাজবাড়ি , কুষ্টিয়া, লালনশাহ সেতু, হাড্ডিঞ্জ ব্রিজ,  মিঠামইন, অস্টগ্রাম, ইটনা, নিকলী, টাঙ্গাইল ২০১ গম্বুজ মসজিদ, সিন্দুকছড়ি , সাজেক ঘুরে বেড়িয়েছি। ‌ এছাড়াও পঞ্চগড় জেলার “তেতুলিয়া” জিরো পয়েন্ট, সহ আরো অনেক নাম না জানা জায়গায় ভ্রমণ করি।

 

বাইকটির বিশেষ আকর্ষণ

১) আমি ৫৭,০০০ অতিক্রম করার পরে স্টক টায়ার চেঞ্জ  করিনি, কিন্তু সবচেয়ে মজার বিষয় হল কোনদিন পাংচার হয় নাই।

২) একটি মজার বিষয় হল এই ৬০,০০০ হাজার কিলোমিটার রাইডের মধ্যে মাত্র একবার ফুল সার্ভিস করি।

৩) বাইকটি খুব সহজেই ১০০ কিলোমিটার গতি এচিব করতে পারে।

আমার বাইকটি কেনার আসল কারণ হলো, বাইক দিয়ে দেশের সকল সুন্দর্য খুব কাছাকাছি থেকে উপভোগ করা। আলহাদুলিল্লাহ আল্লাহ অনেক জায়গা ঘুরিয়েছেন। দোয়া করবেন যেন আরো ঘুরতে পারি।

অলি আহাদ খান
অলি আহাদ খান এর সর্বশেষ লেখাগুলি (see all)

Related Posts

Add Comment